জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশ নেয়ার আহ্বান সিইসির
আগামী নির্বাচনেও আ.লীগ বিজয়ী হবে- তথ্যমন্ত্রী : ফাঁকা মাঠে গোল নয়- কাদের
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলকে অংশ নিতে আবারো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আজ (রোববার) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিনে তিনি এ আহ্বান জানান। এ ছাড়াও রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবে সমঝোতা করারও আহ্বান জানান সিইসি।
সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সকল দলকে আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা না থাকলে জনমতের সঠিক প্রতিফলন হয় না। পক্ষ-প্রতিপক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সম্ভাব্য অনিয়ম, কারচুপি, দুর্নীতি, অর্থ শক্তির বৈভব ও পেশি শক্তির প্রয়োগ ও প্রভাব বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।’
নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ করতে কমিশন ‘সর্বাত্মক চেষ্টা করবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সব দল সহযোগিতা না করলে আমরা ব্যর্থ হয়ে যাবো। আপনাদের সমন্বিত প্রয়াস থাকবে, কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায়, আপনাকে রাইফেল বা আরেকটি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়াতে হবে।’
সিইসি বলেন, আমরা সহিংসতা বন্ধ করতে পারব না। আপনাদেরও (রাজনৈতিক দল) দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ খেলোয়াড় কিন্তু আপনারা। মাঠে খেলবেনও আপনারাই, আমরা রেফারি। আমাদের অনেক ক্ষমতা আছে, সেটা কিন্তু কম না; ক্ষমতা প্রয়োগ করবো। আমি আপনাদের স্পষ্ট করে জানাতে চাচ্ছি- গত ১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনের দায় আমাদের ওপর চাপাবেন না। আমাদের অধীনে নির্বাচনের দায় আমরা বহন করব।
‘বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’ উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘একটি মাত্র দল ৩০০টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে সাংবিধানিকভাবে কোনও বাধা নেই। তবে ইতিহাস বলে সেক্ষেত্রে অচিরেই গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হবে। স্বৈরতন্ত্র মাথা জাগিয়ে তুলবে। গণতন্ত্রের আরাধ্য পুনরুদ্ধার হয়ে পড়বে দুরূহ।’
আজ সংলাপের প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কংগ্রেস ও বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসি।
এদিকে, সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবারও (দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে) ধস নামানো বিজয় হবে। শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হবেন। বিএনপি বিভিন্ন দূতাবাসে ঘুরে বেড়ায়। তারা মাঠে নেই।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে ‘স্বপ্ন ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ কখনও ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না: ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনও ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না। আওয়ামী লীগ সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চায়।
রোববার সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) প্রধান কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনের সংলাপে প্রত্যেকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নেবে, এমন প্রত্যাশা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা এই নির্বাচনকে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হিসেবে দেখতে চাই। সে কারণে নিবন্ধিত সবার অংশগ্রহণে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়- বিরোধীদলগুলোর এমন দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা বা দফতর নির্বাচন চলাকালে সরকারের নির্দেশে চলবে না। চলবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ হয় তাহলে নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হবে, এখানে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। সরকার শুধু সহযোগিতা করবে কমিশনকে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।