মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে ‘ডিবি’ পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপির
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i116958-মির্জা_ফখরুল_ও_মির্জা_আব্বাসকে_ডিবি’_পরিচয়ে_তুলে_নেওয়ার_অভিযোগ_বিএনপির
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিজ নিজ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে, এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০৯, ২০২২ ০৬:০৫ Asia/Dhaka
  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাস
    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিজ নিজ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে, এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার উত্তরার বাসা থেকে এবং মির্জা আব্বাসকে তার শাহজাহানপুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বিএনপির শনিবারের গণসমাবেশের ভেন্যু নির্ধারণের জন্য বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কমলাপুর স্টেডিয়াম ও মিরপুর বাঙলা কলেজের মাঠ পরিদর্শন শেষে বাসায় ফেরেন মির্জা আব্বাস। 
এদিকে, মির্জা ফখরুলকে ডিবি পুলিশের তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা তার উত্তরার বাসায় যান। সেখানে আজ (শুক্রবার) ভোর ৬টার দিকে কথা হয় বিএনপি মহাসচিবের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে।  
মির্জা ফখরুলকে কখন তুলে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে রাহাত আরা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, চারজন উপরে আসছিলেন। তাদের বসানো হয়েছিল। তারা বলেছেন, তাকে নিয়ে (মির্জা ফখরুল) যাবেন। পরে শুনেছি নিচে দরজা না খোলায় সিকিউরিটি গার্ডকে চড় থাপ্পড় মারা হয়েছে। 
কেন তাকে নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তারা কিছু বলেছেন কিনা- জানতে চাইলে ফখরুল পত্নী বলেন, ‘কাল-পরশুর মধ্যে তার (মির্জা ফখরুল) বিরুদ্ধে নাকি দুই তিনটা মামলা হয়েছে। আপনারা কেন এসেছেন- জানতে চাইলে তারা স্যারকে (মির্জা ফখরুল) বলেন, তারা উপরের নির্দেশে তাকে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে কার নির্দেশে নিয়ে যাচ্ছেন সেটা তারা বলেন নাই।’ 
তুলে নিয়ে যাওয়ার আগের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘ওরা নাকি চার পাঁচটা গাড়ি নিয়ে রাত ১০টা থেকে টহল দিচ্ছিল। শুনেছি, আগে থেকেই হয় তো তাদের অ্যারেস্ট করার পরিকল্পনা মাথায় ছিল। এরপর তিনটার দিকে তারা নিচে দরজা খুলতে বলেন। ওরা (সিকিউরিটি গার্ড) দরজা খুলতে চাচ্ছিল না। তাদেরকে চড় থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। ওই সময় রাস্তার লাইট বন্ধ করা ছিল। আপনারা (সাংবাদিক) আসার সময় দেখেছেন। রাস্তায় একটা বড় লাইট জ্বলে, সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।‘ 
নয়টি বিভাগীয় সমাবেশ শেষে আগামীকাল শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ করার কথা রয়েছে। বিএনপি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ করতে চেয়েছিল। তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় পুলিশ। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নয়, নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার বিষয়ে অনড় অবস্থান জানান বিএনপির নেতারা।
এই সমাবেশ কোথায় হবে, তা নিয়ে বিতর্ক-আলোচনার মধ্যে বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মকবুল আহমেদ নামে বিএনপির এক কর্মী নিহত হন, আহত হন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির চার শতাধিক নেতা-কর্মীকে।
বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে তল্লাশি শেষ হওয়ার পর ওই কার্যালয়ের সামনের সড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে সে সময় ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পর বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে বৈঠক করতে যান। দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের বৈঠক শেষে বের হয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা (বুলু) সাংবাদিকদের বলেন, গণসমাবেশের জন্য কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম ও মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।  আলোচনায় ডিএমপি কমিশনার গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলেও জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতা বরকতউল্লা। বিএনপির এ নেতা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে এই আশ্বাস বাণী শুনে আসার কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ দলটির জ্যেষ্ঠ দুই নেতাকে আটক করার খবর এল।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/রেজওয়ান হোসেন/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।