গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ: দৃষ্টি থাকবে বিদেশি কূটনীতিকদেরও
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আয়তনে সবচেয়ে বৃহত্তম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশ না নিলেও এ নির্বাচনের দিকে শুধু এ নগরবাসী নয়, পুরো জেলাসহ সারা দেশ এমনকি বিদেশি কূটনীতিকরাও তাকিয়ে আছেন। প্রায় ১২ লাখ ভোটার এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ইভিএম মেশিনে ভোট প্রদান করবেন।
নির্বাচিত করবেন মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর। মঙ্গলবার ছিল নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন। এদিন মধ্যরাত থেকে প্রার্থীদের প্রচার শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু ভোট প্রদান ও ভোট গ্রহণের। প্রায় ৪০ লাখ নগরবাসীর সেবা করার জন্য কারা হচ্ছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এটাই নির্ধারণ হবে বৃহস্পতিবারের এ নির্বাচনে। ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তারা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
দেড় হাজারের মত পোশাক কারখানার এলাকা গাজীপুরে সিটি নির্বাচনের পোশাক শ্রমিকদের একটি বড় ভূমিকার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এবারে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর হোসেনের মনোনয়ন ও দলীয় পদ বাতিলের ঘটনায় আলোচনা বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। আর মা মেয়র প্রার্থী হওয়ায় চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্লাহ নজরুল ইসলাম।
এ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় সংসদসহ আগামী নির্বাচনগুলোতে অনেকটা প্রভাব ফেলবে এমন ধারণায় এ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন প্রতিদিন ভিড় জমিয়েছেন গাজীপুরে।
তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও জানিপপ চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের আঁচ অনেকে ভাবলেও যেহেতু বিএনপি এখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছে না, সেহেতু এ গুরুত্ব সেখানে কিছুটা ম্রিয়মান। কিন্তু বিদেশি নির্বাচন অবজারভার এমনকি কূটনীতিকদের দৃষ্টি অবশ্যই থাকবে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের দিকে।
এ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাকের পার্টিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সবার দৃষ্টিই এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর দিকে। মূলত নির্বাচনে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে অন্য মেয়র প্রার্থীদের। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. আজমত উল্লা খান গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি সাবেক টঙ্গী পৌরসভার মেয়র/চেয়ারম্যান হিসেবে তিনবার নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের এ মেয়র প্রার্থী নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার জন্য তার ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার সঙ্গে টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন। #
পার্সটুডে/বাদশাহ রহমান/আশরাফু্র রহমান/২৪