ইংল্যাণ্ডের বিপক্ষে অসাধারণ জয় বাংলাদেশের, ম্যাচ সেরা মাশরাফি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i22489-ইংল্যাণ্ডের_বিপক্ষে_অসাধারণ_জয়_বাংলাদেশের_ম্যাচ_সেরা_মাশরাফি
বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ রানের জয় পেয়েছে টাইগাররা। ২৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ২০৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই জয়ে সিরিজে ১-১ এ সমতা ফিরল।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
অক্টোবর ০৯, ২০১৬ ১৯:২৫ Asia/Dhaka
  • ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার নিচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা
    ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার নিচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা

বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ রানের জয় পেয়েছে টাইগাররা। ২৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ২০৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই জয়ে সিরিজে ১-১ এ সমতা ফিরল।

আজ (রোববার) দুপুরে মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে মাশরাফিকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ইংলিশ দলপতি জস বাটলার। শুরুতেই চাপ সৃষ্টি করেন ক্রিস ওকস ও উইলি। বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙেন ওকস। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস ১৮ বলে মাত্র ১১ রান করে উইলির হাতে ধরা পড়েন। ইমরুল কায়েসের পর দ্রুতই ফিরে যান তামিম ইকবাল। ব্যক্তিগত ১৪ রানে ওকসের বলে মিড উইকেটে মঈন আলীর হাতে ধরা পড়েন তিনি।

শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন সাব্বির। খুব ধীর গতিতে ব্যাট করতে থাকেন তিনি। তবে ২১ বল খেলে মাত্র ৩ রান করে জ্যাক বলের শিকার হন সাব্বির। আগের ম্যাচে মোসাদ্দেক যেভাবে আউট হন তারই পুনরাবৃত্তি হয় সাব্বিরের বেলায়। বোল্ড হয়েছেন এ হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।

বিপর্যয় সামাল দিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম চেষ্টা চালিয়ে যান। রানের চাকা সচল রেখে উইকেটও সামাল দেন তারা। তাদের জুটিতে আসে ৫০ রান। এই জুটি ভাঙেন আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক ইংলিশ পেসার জ্যাক বল।

টাইগারদের উল্লাস

বাউন্স বলে সীমানার কাছে আদিল রশিদের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। তিনি ২১ রান করেন। এরপর সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে ১৯ রানের ছোট একটি জুটি গড়েন রিয়াদ। তবে খুব বাজে একটা বলে ইংলিশ বোলার স্টোকসকে উইকেট উপহার দেন সাকিব। তিনি মাত্র ৩ রান করেন।

এরপর উইকেটে সেট হয়ে ৭৫ রানে ফিরে যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে মোসাদ্দেকের সঙ্গে ৪৮ রানের জুটি গড়েন এ ব্যাটিং অলরাউন্ডার। রিয়াদের পর দ্রুতই ফিরে যান মোসাদ্দেক। আদিল রশিদের বলে ওভার বাউন্ডারি মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন মোসাদ্দেক। তিনি ২৯ রান করেন।

এরপরই নাসির হোসেন এবং মাশরাফির ৬৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহে নিয়ে যায়। নাসির হোসেন ২৭ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। মাশরাফি ফিফটির কাছে গিয়েও রান আউটের শিকার হন। ২৯ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৪৪ রান করেন তিনি।

২৩৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মাশরাফি। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার ভিঞ্চকে সাজঘরে পাঠান তিনি।ভিঞ্চ ৫ রান করে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন। পরের ওভারেই ডাকেটকে বোল্ড করেন সাকিব। এরপর জেসন রয়কে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন মাশরাফি। রয় ১৩ রানে আউট হন।

নিজের ৫ম ওভারে আবারও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শিবিরি আঘাত হানেন মাশরাফি। বেন স্টোকসকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। স্টোকস কোনো রান করতে পারেননি। এই স্টোকসই আগের ম্যাচে দুইবার জীবন পেয়ে শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও চাপ সামাল দেন বাটলার এবং বেইস্ট্রো। তাদের জুটিতে আসে ৭৯ রান। বেইস্ট্রোকে ফিরিয়ে দিয়ে জুটি ভাঙেন তাসকিন। বেইস্ট্রো ৩৫ রান করেন।

এরপর মঈন আলীকে সাজঘরে পাঠান দলে ফেরা নাসির হোসেন। নাসের বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচে আলীকে ফেরত পাঠান সাকিব।  পরের ওভারেই ৫৭ রান করা বাটলারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাসকিন আহমেদ।

দ্বিতীয় স্পেলে তাসকিন যে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন তা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। নিজের ৬ষ্ঠ ওভারে ওকসকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ওকস ৭ রান করেন। ১২০ থেকে ১৩২ রানের মধ্যে আরও ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড।

বোলিংয়ে এসে সফলতা পান মোসাদ্দেকও। উইলিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। তবে শেষ উইকেটে অবিশ্বাস্য ৪৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছিলেন আদিল রশিদ ও জ্যাক বল। একের পর এক বোলিং পরিবর্তনের পরও কোনো লাভ হচ্ছিল না। তাই নিজেই সে দায়িত্ব কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে ফিরেন বোলিংয়ে। বলকে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ বানান নাসির হোসেনের। ৩৪ রানে জিতে যায় বাংলাদেশ।

ক্রিকেটভক্তদের চাপে দলে সুযোগ পাওয়া নাসির হোসেন হতাশ করেননি। ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৭ রান করার পর বল হাতেও সফল ছিলেন এ ডানহাতি। ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন তিনি।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পর বল হাতেও জ্বলে উঠে চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। শুরুতেই তিন উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। আর এর প্রতিদান হিসেবে পান ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার।

এদিকে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে জেতায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরিন শারমীন ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।#

পার্সটুডে/এআর/৯