গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i54914-গঙ্গার_পানির_ন্যায্য_হিস্যা_আদায়ে_সক্ষম_হয়েছে_বাংলাদেশ_প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। আন্তঃদেশীয় নদীর পানি ব্যবস্থাপনার ভারতের সাথে একটা সমস্যা রয়েছে। ৫৪টা নদী ভারত থেকে এসেছে। এই নদীগুলো নিয়েও ভারতের সঙ্গে যথেষ্ঠ আলোচনা চলছে।”
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
মার্চ ২৭, ২০১৮ ১১:৪০ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। আন্তঃদেশীয় নদীর পানি ব্যবস্থাপনার ভারতের সাথে একটা সমস্যা রয়েছে। ৫৪টা নদী ভারত থেকে এসেছে। এই নদীগুলো নিয়েও ভারতের সঙ্গে যথেষ্ঠ আলোচনা চলছে।”

বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আজ  (মঙ্গলবার) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির আওতায় এসেছে। শতভাগ মানুষ যাতে সুপেয় পানি পায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে তাঁর সরকার।

বাংলাদেশের শতভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,“বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি কীভাবে আরো বেশি করে ধরে রাখা যায়, তার পরিকল্পনা নিতে হবে।”

তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পুকুর-খাল ভরাট করা যাবে না। শিল্প-কারখানার জন্য অনেক সময় ভরাটের প্রয়োজন হলেও বিকল্প জলাধার সৃষ্টি করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দিনে দিনে পানির আধারগুলো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। নগরায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির ক্ষতির বিষয়টা বিবেচনা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশের এত নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর- সেগুলো কিন্তু সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। মিষ্টি পানির অভাব রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে, বাংলাদেশে সেই সমস্যাটা নাই। আমরা নদীমাতৃক দেশ, পানির কিন্তু অভাব নেই।”

তারপরও পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে পানির সুব্যবস্থা করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে প্রায় ৭০০ নদী থাকার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশে এত নদী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে এ নদীগুলোর ধারণক্ষমতা কমে গেছে। নদীর তলদেশগুলি আস্তে আস্তে উঁচু হয়ে যাচ্ছে।

“আমি সবসময় মনে করি, ড্রেজিং করে, নাব্যতা বাড়িয়ে, বর্ষাকালের পানি যতোটা বেশি আমরা সংরক্ষণ করতে পারবো তত বেশি আমাদের দেশের জন্য উপকার হবে।”

তার সরকারের সময় খননের মাধ্যমে নদ-নদীর গতিপথ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা জানান, ৮২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় ৬৪ লাখ হেক্টর এলাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে বছর ১ কোটি মেট্রিক টন বেশি খাদ্য শস্য উৎপাদিত হচ্ছে। সারাদেশে নদী তীরবর্তী একহাজার ৩০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার হয়েছে।

প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে ফসল উৎপাদন ও খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা  বলেন, “প্রকৃতির সাথে বসবাস করতে হবে। প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”

অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার বক্তব্য দেন।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২৭