তফসিল ঘোষণার পর অনেকেই আন্দোলন ছেড়ে নির্বাচনে আসবে: কাদের
-
ওবায়দুল কাদের
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অনেকেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর, নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি না এলেও যুক্তফ্রন্ট বা ঐক্য প্রক্রিয়া ইলেকশনে আসবে না, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই।
আজ (রোববার) সকালে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। নির্বাচনের সময় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার দাবিকে অযৌক্তিক ও অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সরকারের ভূমিকা গৌণ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা মুখ্য। তাই সরকার নয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন বেশি প্রয়োজন। আর নির্বাচনের মাত্র তিন মাস বাকি আছে। এ সময়ে সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তাই নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নেয়া হলে সেটা সংবিধান সম্মত হবে না।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, দাবিনামা আসবেই। বিরোধীদল যা আদায় করা যায় সেটা নিয়ে দাবি করবেই। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো অসহিষ্ণুতা নেই। আমাদের সহিষ্ণুতা দেখাতে হবে। ইলেকশনের ছবি, এখন যে আন্দোলনের ছবি সেটা থাকবে না। ওই ছবিটা অংশগ্রহণের, উৎসব মুখর পরিবেশের যে দৃশ্যপট সেটাই দৃশ্যমান হবে।
তফসিল পরবর্তী আন্দোলন বা সহিংসতার আশঙ্কা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এক মাসের মধ্যে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে হটিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, এমন আন্দোলন সম্ভব নয়। সেই পরিবর্তন এক মাসে হবে না। এক মাসে দেখবেন, শিডিউল যখন ঘোষণা হবে কতজন এসে নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি না এলে যুক্তফ্রন্ট, ঐক্য প্রক্রিয়া ইলেকশনে আসবে না, সেটা মনে করার কোনো কারণ নেই। খোঁজ-খবর আমাদেরও আছে।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে শিডিউল ঘোষণা হবে। আর অক্টোবরের মাঝামাঝি অথবা শেষ দিকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনে সবকিছু থাকে না, আইনের বিধি আছে, আবার প্রবিধি আছে। বিধিমালায় পরিস্কার করা হয়, আইনের ব্যাখ্যা দেয়া হয়। বিধিমালা প্রণয়নের পর অনেক কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে। সম্পাদক পরিষদের যদি এ ব্যাপারে যুক্তিযুক্ত প্রস্তাব থাকে সেটা গ্রহণ করা হবে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৩০