এটা কোনো নির্বাচন নয়, সিইসি'র পদত্যাগ চাই: ঐক্যফ্রন্ট
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66842-এটা_কোনো_নির্বাচন_নয়_সিইসি'র_পদত্যাগ_চাই_ঐক্যফ্রন্ট
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইসঙ্গে তারা অবিলম্বে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানিয়েছে।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮ ১৯:৪৬ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ
    সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইসঙ্গে তারা অবিলম্বে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানিয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা কোনো নির্বাচন হচ্ছে না, রক্তের হোলি খেলা হচ্ছে। সব জায়গায় আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। মহিলারাও বাদ যাচ্ছে না।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে প্রচারণা চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় আহত ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দেখিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি হলো ২০১৮ সালের নির্বাচন। রক্তাক্ত সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীও আক্রান্ত হয়েছেন। কাউকে বাদ দিচ্ছে না। দেখে মনে হচ্ছে, এটা কোনো নির্বাচন নয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ, অকার্যকর- এটা আজ জাতির সামনে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে সিইসির পদত্যাগ চাই। এখনই চাই তিনি পদত্যাগ করুন।

এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতি পড়ে শোনান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বিবৃতিতে বলা হয়, "আজ দুপুর ১২টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আমরা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনারগণ ও সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করে সারা দেশে বিরোধীদলীয় প্রার্থীগণ এবং তাদের সমর্থকদের সাথে সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশের অন্যায়, অসাংবিধানিক ও মারমুখী আচরণ, অনেক প্রার্থী এবং তাদের কর্মীদের দৈহিকভাবে আহত ও নিগৃহীত করা, কয়েকজন প্রার্থীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থী এবং প্রার্থীর সহযোগীদের আত্মীয়স্বজনের সাথে দুর্ব্যবহার ও গ্রেপ্তার করা, বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের স্বাভাবিক নির্বাচনী  প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিভিন্ন অভিযোগ তথ্য প্রমাণসহ উত্থাপন করা হয়। গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা গণফোরাম সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চুন্নুকে বাড়ি থেকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যায়।"

বিবৃতিতে বলা হয়, “ঐক্যফ্রন্টের আলোচনায় ড. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য জাতীয় নেতারা সরকারের প্রশাসন ও পুলিশের ক্রমাগত অসহযোগিতা এবং বহু ক্ষেত্রে আক্রমণকারী সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আক্রমণের শিকার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে দিন, তারিখ, স্থান উল্লেখ করে অভিযোগ জানান। তারা নির্বাচনের সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনকে এসব ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের এবং ইতিমধ্যেই যেসব সরকারি ও পুলিশ কর্মকর্তা-দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করেছে তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার কিংবা অবিলম্বে বদলি করার দাবি জানান। কিন্তু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে আমাদের বলতে হচ্ছে যে, ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের যুক্তিগ্রাহ্য ও প্রমাণ সিদ্ধ বিষয়গুলোকে অগ্রাহ্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতাসীন দলের নেতার ভাষায় অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে পক্ষপাত দুষ্ট ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিলে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা শুধু ক্ষুব্ধ নন— বিস্মিত ও হতাশও হন।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান-এমন অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিতে পারে তা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। এই ঘটনায় স্পষ্টতই প্রমাণিত হয়েছে যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে নিয়োগদানকারী ক্ষমতাসীন সরকারের অতি বাধ্যগত একজন কর্মচারীর চেয়ে আর বেশি কিছু নন। তাঁর নিকট থেকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন তো দূরের কথা নিরপেক্ষ আচরণ পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। এমতাবস্থায় আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে একজন মেরুদণ্ডহীন পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে নির্বাচন কমিশনকে মুক্ত করা অনিবার্য প্রয়োজন বলে মনে করি। আমরা অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছি এবং যথার্থই একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট দাবি জানাচ্ছি।”

বিবৃতি পড়ে শোনানোর পর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ইসি ১৯৭১ সালের আল বদর, আল শামস বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ক্ষমতাসীনদের বিজয়ী করতে। ১৯৭১ সালে জনগণ যেভাবে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছে ঠিক একইভাবে আগামী ৩০ তারিখের নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করবে। আমরা বলতে চাই রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো।”

এখনো নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে: সিইসি

এদিকে, সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘এখনো নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। অবশ্যই। অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক হবে। সবাই অংশগ্রহণ করছে।’

আজ বিকেলে রাজধানীর টিকাটুলীতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সিইসি এ মন্তব্য করেন। এ সময় আজ দুপুরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিইসি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পরে ইসি সচিব কথা বলবেন।’#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৫