অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া হবে- কাদের; সরকারকে দায়ী করলেন ফখরুল
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার এলাকায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় সর্বশেষ খবর অনুযায়ী নারী ও শিশুসহ ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন অর্ধ শতাধিক।
এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ।
বুধবার রাতে সৃষ্ট এ অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর সরকারের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং হাসপাতালে আহতদের দেখতে গেছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে চকবাজারের চুরিহাট্টা এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া এসব মানবিক দিক শেখ হাসিনার সরকার সবসময় দেখে আসছে এখনও দেখবে।
ইতোমধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে যারা শ্রমিক তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। আর আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, অগ্নি দুর্ঘটনায় আহতদের সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালগুলোতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ওদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এ দুর্ঘটনার জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন।
এ প্রসংগে পরিবেশ বিষয়ক আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক কারখানা বা গুদাম স্থাপন করা যাবে না- এরকম আইন থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না। অতএব, এ ধরনের দুর্ঘটনার দায় রাষ্ট্র কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, 'আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারবেন না। কিন্তু আবাসিক এলাকাগুলোতেই তো এসব শিল্পগুলো গড়ে উঠছে যেটা পুরোটাই আইন লঙ্ঘন। এটাকে প্রতিদিন পরিদর্শন করে একটা চেকের মধ্যে নিয়ে আসার ব্যাপারে দায়িত্ব ছিল সিটি করপোরেশনের। যারা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন তারাই তো জড়িত।'
এর আগে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পুরান ঢাকা থেকে কেমিকেল কারখানা সরিয়ে নিতে আরো সময় প্রয়োজন। এটি তাদের দায়িত্ব নয়। তবে এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিলে তারা সহায়তা করবে।
অগ্নিকান্ডের কারণ অনুসন্ধানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চকবাজারের দুর্ঘটনাস্থলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাসায়নিক কারখানার বিরুদ্ধে তিনি অভিযান শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার দু’দিনের মাথায় এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
এ অগ্নি দুর্ঘটনা তার ব্যর্থতার কারণে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণই তা বিচার-বিবেচনা করবেন।
এদিকে, পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পৃথক পৃথক শোকবার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/২১
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন