উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়: বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সাকিবের
-
সাকিব আল হাসানকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন ডারেন ব্রাভো
সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের ১৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সাত উইকেটে হারাল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত এ জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আশা টিকে রইল টাইগারদের।
টন্টনে বিশ্বকাপের ২৩তম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ৩২২ রানের লক্ষ্য টাইগাররা পার হয়ে গেছে ৫১ বল হাতে রেখেই। কেবল বড় রান তাড়ার জন্যই নয়। ম্যাচটা বাংলাদেশ স্মরণীয় করে রাখল এত বড় রান তাড়ায় এত দাপট দেখিয়ে জেতায়।
এর আগে, ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের দেয়া ৩১৯ রানের টার্গেটের বিপরীতে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে করে ৩২২ রান। যা ছিল বাংলাদেশের ওয়ানডে ও বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। এবার ক্যারিবীয়দের ৮ উইকেটে করা ৩২১ রান অনায়াসে পার হয়ে নিজেদের রেকর্ডটি ভাঙল টাইগাররা।
বাংলাদেশকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। বল হাতে ৮ ওভারে ৫৪ রানে ২ উইকেট শিকারের পর সাকিব ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছেন ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১ রানের পর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার উইন্ডিজের বিপক্ষে করেছেন অপরাজিত ১২৪ রান।
এছাড়া উইন্ডিজের বিপক্ষে ২৩ রান করে সাকিব দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে স্পর্শ করেন ৬ হাজার রানের মাইলফলক। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম ইকবাল।
সাকিবের মাহাত্ম্য এখানে শেষ নয়; ইংল্যান্ড ও ওয়েলস বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকাতেও সবার শীর্ষে উঠেছেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। ৪ ম্যাচে ২ ফিফটি ও দুই সেঞ্চুরিতে সাকিব করেছেন ৩৮৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ করেছেন ৫ ম্যাচে ৩৪৩ রান।
টনটনে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠান মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাটিং দানব গেইলকে শূন্য রানে দ্রুত আউট করে টাইগার শিবিরে স্বস্তির পরশ এনে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। কিন্তু সেই বিপর্যয় কাটিয়ে তুলেন শাই হোপ ও এভিন লুইস জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে তারা অনবদ্য ১১৬ রানের জুটি গড়েন।
ক্যারিবীয় ওপেনার এভিন লুইসকে সাজঘরে ফেরান সাকিব আল হাসান। তার আগে ৬৭ বলে ৬টি চার ও দুই ছক্কায় ৭০ রান করেন লুইস।
সাকিবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন নিকোলাস পুরান। বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পুরান। তার আগে ৩০ বলে ২৫ রান করেন তিনি।
পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান শিমরন হেটমায়ার। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি। ফিফটি করার পরের বলে মোস্তাফিজুর রহমানের কাটারে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন হেটমায়ার।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আন্দ্রে রাসেল। কাটার মাস্টারের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন রাসেল। ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেও বেশি দূর যেতে পারেননি ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। সাইফউদ্দিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে মাত্র ১৫ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৩ রান করেন হোল্ডার।
ব্যাটসম্যানদের এই আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন শাই হোপ। ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন তিনি। ৭৭ বলে ফিফটি করার পর একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যান তিনি। মোস্তাফিজুর রহমানের তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ১২১ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ৯৬ রান করেন হোপ। ইনিংসের শেষ দিকে ১৫ বলে ১৯ রান করে সাইফউদ্দিনের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন ড্যারেন ব্রাভো।
উইন্ডিজদের দেয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। দু’জনের ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আন্দ্রে রাসেল। সৌম্য ক্রিস গেইলের হাতে বন্দী হয়ে ফিরেন ২৯ রানে। ২০১৯ বিশ্বকাপে প্রথম ফিফটি থেকে ২ রান দূরে থাকতে রান আউটের শিকার হোন তামিম। এর পরপরই ব্যক্তিগত ১ রানে ফিরে যান মুশফিকুর রহিমও।
তবে হাল ধরে থাকেন সাকিব। লিটনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এনে দেন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় জয়। সাকিব তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি। ওশানে টমাসের বলে ৪ মেরে সেঞ্চুরি করেন তিনি। সাকিবকে যোগ্য সঙ্গ দেন লিটন দাশ। দু’জনে মিলে বিশ্বকাপে সর্বেোচ্চ ১৮৯ রানের জুটি গড়েছেন।
লিটন গ্যাব্রিয়েল শ্যাননের বলে চার মেরে বাংলাদেশকে এনে দেন অবিস্মরণীয় জয়। এর আগে শ্যাননকে টানা তিন ছক্কা মারেন লিটন। বিশ্বকাপে উইন্ডিজদের বিপক্ষে এত রান তাড়া করে জিতেনি কোন দল আগে। এছাড়া সব প্রতিযোগিতা মিলে উইন্ডিজদের বিপক্ষে টানা ৫ ম্যাচ জিতেছে টাইগাররা।
সাকিব সেঞ্চুরি পেলেও ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট।
বল হাতে ৫৪ রানে দুই উইকেট আর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে জেতানোয় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছেন সাকিব আল হাসান।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭