‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিলেন মিন্নি: ফাঁসানোর অভিযোগ বাবার
-
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি
বাংলাদেশের বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই ১৬৪ ধারায় ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে এখন পর্যন্ত ১৩ আসামি স্বীকারোক্তি দিলেন।
আজ (শুক্রবার) বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে মিন্নি এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানান বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে চায়। আমি তাকে শুক্রবার বিকাল ৩টায় বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসি। সেখানে তিনি বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’
তবে জবানবন্দি চলাকালে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর অভিযোগ করেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মেয়ের কাছ থেকে সাজানো জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মেয়ে কোনোভাবেই জড়িত নয়।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আইনজীবীরা আসবে শুনে পুলিশ নির্যাতন করে তড়িঘড়ি আমার মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার মেয়েকে গ্রেপ্তার করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন আবার তাকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করানো হলো। এর মাধ্যমে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।
মিন্নির বাবা আরও বলেন, আমি আইনি লড়াই করে সত্যটা বের করব ইনশাল্লাহ। আমার মেয়ে জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ? এসব কিছুই শম্ভু বাবুর (স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে সেভ করার জন্য আমাদের বলি দেয়া হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দি গ্রহণের পর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে মিন্নিকে আবারো জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
১৬ জুলাই মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এর আগে ১৩ জুলাই রিফাতের বাবা ও হত্যা মামলাটির বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, তার ছেলে হত্যার ঘটনায় পুত্রবধূ মিন্নিও জড়িত বলে সন্দেহ করছেন তিনি। সেদিন মিন্নি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমন সন্দেহের পেছনে ১০টি কারণও বলেন তিনি। এরপর তার সন্দেহের বিষয়টি আমলে নেয় পুলিশ।
রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২ জুলাই মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১৩ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তখন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।