ডেঙ্গু জ্বরে এবার হবিগঞ্জের সিভিল সার্জনের মৃত্যু
-
ডা. শাহাদাত হোসেন
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জের নবাগত সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন মারা গেছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতীন্দ্র চন্দ্র দেব জানান, সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন সিভিল সার্জন। তবে রোববার সকালে অফিস করেন তিনি। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায়ও অংশ নেন। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে সভা ত্যাগ করেন সিভিল সার্জন। বিকেলের দিকে আবারো অসুস্থবোধ করলে দ্রুত তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন। ঢাকায় তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ দাশ জানান, ডা. শাহাদাত হোসেনের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। গত ৯ জুলাই পদোন্নতি পেয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। যোগদানের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীরা।
এর আগে গত ৩ জুলাই রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ডা. নিগার নাহিদ দিপু নামে এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৩২ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন ডা. নিগার। সর্বশেষ তিনি কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছে পাঁচজন। তবে বেসরকারি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি-বেসরকারি ১৭টি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন মারা গেছে। এদের একটি বড় অংশ শিশু। মৃতের তালিকায় একজন চিকিৎসক, একজন নার্স, একজন গর্ভবতী, চিকিৎসকের এক ছেলে এবং শিক্ষকের এক ছেলে আছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই।
২০০০ সালে দেশে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। সরকারি হিসাবে ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন আক্রান্ত হয়েছিল আর মারা গিয়েছিল ৯৩ জন। এরপর ডেঙ্গু জ্বরে মৃতের সংখ্যা কমতে থাকে। গত বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মারা গিয়েছিল ২৬ জন। এর মধ্যে সরকারি হিসাবে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক ও আইসিডিডিআরবির পরামর্শক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, সরকারের উচিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২