শেখ হাসিনার ভারত সফরে ৭টি চুক্তি সই এবং বিরোধীদের অভিযোগ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i74281-শেখ_হাসিনার_ভারত_সফরে_৭টি_চুক্তি_সই_এবং_বিরোধীদের_অভিযোগ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের ভারত সফর শেষে রবিবার রাতে ঢাকা ফিরেছেন।এই সফরের তৃতীয় দিনে শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই সাতটি চুক্তি হয়। চুক্তি ও সমঝোতাপত্র বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ০৭, ২০১৯ ১৪:০৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের ভারত সফর শেষে রবিবার রাতে ঢাকা ফিরেছেন।এই সফরের তৃতীয় দিনে শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই সাতটি চুক্তি হয়। চুক্তি ও সমঝোতাপত্র বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

এ সময় উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিবেশীসুলভ বন্ধূত্বকে বর্তমান বিশ্বের একটি উদাহরণ বলে বর্ননা করেছেন এবং সে সম্পর্ককে আরো উন্নতর পর্যায়ে নিয়ে যাবার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন।   

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো তার প্রাকৃতিক গ্যাস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রপ্তানি করা এবং ফেনীর মুহুরী নদীর পানি নিয়ে ত্রিপুরার সরবরাহ করার ব্যাপারে রাজী হয়েছে বাংলাদেশ। তাছাড়া, ভারতের চাহিদা পুরণে বাংলাদেশের দুটি সমুদ্রবন্দর ব্যবহার ও বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় ভারতীয় পর্যবেক্ষন রাডার স্থাপনের ব্যাপারে সমঝোতা চুক্তি সই করে এসেছে বাংলাদেশ।এলপিজি রপ্তানি জন্য একটি প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বাংলাদেশে মানুষ যে সব বিষয়কে আগ্রাধিকার বিবেচনা করে  আসছে, যেমন-তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগি, সীমান্তে  হত্যা বন্ধ করা কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে ভারতের অধিকতর সমর্থন আদায়-সেগুলোতে বিশেষ কোন কিছুই  অগ্রগতি হয় নি। এ সফরের মধ্য দিয়ে এমনকী দু'দেশের যৌথ বিবৃতিতে ভারতের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি-র প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়নি।

ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত সর্বশেষ চুক্তিগুলিকে দেশের স্বাধীনতা সাবৃভৌমত্ব ও জনগনের স্বার্থ বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, দু’একদিনের মধ্যেই গণতান্ত্রিক বাম জোটের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে  দেশব্যাপী সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইসলামী অন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব  হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেছেন, বন্ধুত্বের নামে ভারতকে একতরফাভাবে যে সুবিধাগুলি দেয়া হচ্ছে তাতে বাংলাদশের জাতীয় অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব  ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছে, অমিমাংসিত কোনো সমস্যার সমাধান না হলেও ক্ষমতায় টিকে থাকতেই দেশের স্বার্থ বিক্রি করেছে শেখ হাসিনার  সরকার।

গতকাল রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'চুক্তির ব্যাপারে সংসদসহ কোনো পর্যায়েই আলোচনা করেনি সরকার। তিস্তাসহ কোনো সমস্যার সমাধান করতে না পারলেও ক্ষমতায় টিকে থাকতেই দেশের স্বার্থ বিক্রি করে দিয়েছে সরকার। মনে হয়েছে, এগুলো চুক্তি নয়, যেন শেখ হাসিনা আরেকটি দাসখত দিলেন। এর মাধ্যমে মূলত স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের সমুদ্রবন্দর, ফেনী নদীর পানি ও জ্বালানি সংকটময় বাংলাদেশের গ্যাস হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।'

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

তিনি আরও বলেন, 'এসব চুক্তি ছাড়াও নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই  উপকূলীয় নজরদারির জন্য বাংলাদেশে রাডার স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার বদলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ক্ষমতার মসনদে থাকার গ্যারান্টি আর ঠাকুর শান্তি পুরস্কার। বিনিময়ে বাংলাদেশ কিছুই পায়নি।

ফেনী নদীর পানি রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকারী গণদলের চেয়ারম্যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন,  ফেনী নদী একমাত্র নদী এ নদী বাংলাদেশের নদী। ৫৪টি অভিন্ন নদী ভারতের সাথে ১৯৭৫ সালে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। সে ৫৪ নদীর মধ্যে ফেনী নদীর নাম উল্লেখ ছিলনা। কিন্তু এ নদীর পানি ভারতকে দিয়ে আমাদের জাতীয় স্বার্থের প্রতি আঘাত হেনেছে। জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে আমাদের সরকার। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে ফেনীসহ অত্র অঞ্চলকে মরণকরণের দিকে দাবিত করছে। এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করে জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুন্ন রাখবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

ওদিকে, খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এক বিবৃতিত জানিয়েছেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে দিল্লীকে তুষ্ট করতে শেখ হাসিনা সরকার একের পর এক দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে যাচ্ছে। দিল্লাকে তুষ্ট করতে শেখ হাসিনার সর্বশেষ নজরানা হচ্ছে ফেনী নদীর পানি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশের জন্যে কিছুই আনতে পারেন না শুধু ভারতকেই দিয়ে আসেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতকে ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহারের সুযোগ না দেয়ার দাবী জানান। একই সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, বাংলাদেশ উপকূলে ভারতের রাডার স্থাপনের সুযোগ প্রদানসহ সকল স্বার্থ বিরোধী চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাতিলের জোর দাবী জানান।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/এমবিএ/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।