আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে সরকার পতন আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: মওদুদ
-
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
বিএনপি নেতারা বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি যে চুক্তি করেছে সবগুলোই দেশের স্বার্থবিরোধী। এ সব চুক্তির কারণে দেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বুয়েট ছাত্র ফাহাদ তার ফেসবুকে এসব কথা লিখেছিল বলেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের জন্য তার এ রক্তদান বৃথা যাবে না। শহীদ জেহাদের রক্ত দানের মাধ্যমে যেমন নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদের পতন হয়েছিল, তেমনি ফাহাদের রক্ত দানের মাধ্যমে এ সরকারের পতনের সূত্রপাত হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি, বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ ও বিএনপি চেয়রপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এমন মন্তব্য করেন।
সমাবেশে ভারতের সঙ্গে সাক্ষরিত চারটি চুক্তিই দেশের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড: খন্দকার মোশাররফ বলেন, ফেনী নদীর পানি দেওয়া হলে মুহুরী প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ভারত ব্যবহার করলে দেশের ব্যবসায়ীদের মালামাল খালাসে সময় বেশি লাগবে। সমুদ্র সীমানায় যৌথভাবে রাডার বসালে আমাদের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে। এলপিজি গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করে এনে তা ভারতে রপ্তানি করলে তারাই লাভবান হবে।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বুয়েটের ছাত্র আবরার রক্ত দিয়ে সরকার পতনের যে আন্দোলনের সূত্রপাত করে গেছেন, আমার বিশ্বাস, সারাদেশের দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই রক্তের প্রতিশোধ নেবে।
দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে দেশে কোনোদিন গণতন্ত্র মুক্ত হবে না।’ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান ড. খন্দকার মোশাররফ।
পুলিশের অনুমতি ছাড়াই বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের অনুমতি চাইতে সকালেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়েছেন বিএনপির প্রতিনিধি দল। কিন্তু প্রতিনিধি দল জানিয়েছে তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি ।
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আর একজন সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে সরকার পতন আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার। দেশের মানুষ কখনোই এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে বরদাশত করতে পারে না।’
বিএনপির আজকের সমাবেশে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি না নেওয়ার প্রসঙ্গে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পুলিশের অনুমতির ওপর জনসভা করবে, এটা হতে পারে না। আমরা সমাবেশের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি, তাদের সহযোগিতার জন্য। কিন্তু তারা রাজনৈতিক দলের সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এটা হতে পারে না। এজন্য ২ লাখ মা-বোন ইজ্জত দেয়নি। আর ৩০ লাখ মানুষও রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেনি।’
এদিকে, পল্টনের সমাবেশে আসার পথে বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলেও দলটির নেতারা অভিযোগ করেন। জানা যায় রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে শনিবার দুপুরে তাদের আটক করে নিয়ে গেছে রমনা ও পল্টন থানা পুলিশ।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/এমবিএ/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।