জীবিত অবস্থায় খোকাকে দেশে ঢুকতে দেয়নি সরকার: ফখরুলের অভিযোগ
-
জিয়াউর রহমানের সমাধিতে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় সরকার দেশে ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অনেকবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। সারা জীবন মানুষের সেবা করে গেছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে ছিলেন। খোকার মরদেহ দেশে এসেছে আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় দেশে ঢুকতে দেয়নি সরকার। এটি জাতির জন্য লজ্জার। এ রকম ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের’ কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সিপাহী-জনতা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। আমরা বরাবরই এই দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম করায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও অনৈতিকভাবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক করে রেখেছে। আজকের এই দিনে আমরা তাকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছে। শপথ নিয়েছি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত করে গণতন্ত্রকে মুক্ত করব।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জোর করে ক্ষমতা দখল করে রাখা এই নতজানু সরকার বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের পক্ষের সরকার গঠন করতে আমরা সক্ষম হব।’
৭ নভেম্বরের চেতনায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল।
সংসদ ভবনে খোকার জানাজা সম্পন্ন
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র, বিএনপি নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
সাদেক হোসেন খোকার দুই ছেলে ইশরাক হোসেন ও ইশফাক হোসেন ছাড়াও সংসদ ভবনের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেমন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবের হোসেন চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, তোফায়েল আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অলী আহমদ, আবদুল মঈন খান প্রমুখ।
জানাজা শেষে বিরোধী দলের পক্ষে সাদেক হোসেন খোকাকে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। এরপর শ্রদ্ধা জানান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টারা শ্রদ্ধা জানান।
এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, অবিভক্ত ঢাকার মেয়র, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাকে। সেখানে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহে শ্রদ্ধা জানান, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।