কর্মসূচি ঘোষণা
জনগণ জেগে উঠেছে, সরকারের পতন অনিবার্য: মির্জা ফখরুল
-
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এবং তার জামিনের শুনানি বিলম্বিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
রাজধানীর নয়াপল্টনে আজ (শনিবার) দুপুরে দলের যৌথসভা শেষে এ কর্মসূচির ঘোষণা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বেগম জিয়ার জামিনের শুনানির তারিখ ধার্য করা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত এ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার ঢাকাসহ বিভাগীয় শহর ও জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে দলটি। ঢাকা মহানগরীসহ সব মহানগরের থানায় থানায় ও সব জেলা সদরে এ কর্মসূচি পালিত হবে।
এ সময় মির্জা ফখরুল সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। দেশের জনগণ জেগে উঠেছে। যেকোনো সময় সরকারের পতন অনিবার্য। তাই অবিলম্ব খালেদা জিয়ার মুক্তি দিন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বেগম জিয়ার জামিনের শুনানি এক সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। খালেদা জিয়ার জামিনের সমর্থনে বুধবার রাতেই মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট চূড়ান্ত হয়েছিল। সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে তা আদালতে জমা দেয়া হয়নি। এটা আদালত অবমাননার শামিল।
ওদিকে বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এ মর্মে একমত হয়েছেন যে, সরকার অথবা সরকার প্রধানের বাধাই খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রধান অন্তরায়। তারপরও আপাতত কঠোর কোনও সিদ্ধান্ত না গিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ যে ১২ ডিসেম্বর ধার্য তারিখ রেখেছেন ওইদিন পর্যন্ত বিএনপি দেখবে বলে স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। বেগম জিয়ার জামিন না হলেই স্থায়ী কমিটি পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তার আগ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বিএনপি।
বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত আইনগতভাবে খালেদা জিয়ার জামিন না হলে বিএনপি বাধ্য হয়ে এক দফার আন্দোলনে যাবে। তখন রাজপথেই বিষয়টির ফায়সালা হবে।
বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে লন্ডন অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপের মাধ্যমে সভায় অংশ নেন।
বিজয় দিবসের কর্মসূচি
আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
আজ (শনিবার) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতিহা পাঠ করা হবে। এছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আলোকসজ্জা করা হবে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় বিজয় শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে। এছাড়া, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল বিশেষ আলোচনা সভা অয়োজন করবে। সারাদেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।