খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ: সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
-
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সর্বসম্মতিক্রমে খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বেগম খালেদার জামিন প্রশ্নে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শুনানি শেষ করে আপিল বিভাগের ৬ জন বিচারপতি এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় গিয়ে ১৫ মিনিট পরামর্শ করেন। এরপর বেরিয়ে এসে জামিন খারিজের আদেশ ঘোষণা করেন। এ সময় এজলাস কক্ষে ছিল পিনপতন নীরবতা ।
এর আগে আজ সকালের শুনানীতে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতে বলেছেন, “মানবিক কারণে আমরা জামিনের আবেদন করেছি। আমরা তো আপনাদের কাছেই আসবো। আপনারা সর্বোচ্চ আদালত। উপরে আল্লাহ আর আপনারা ছাড়া আমাদের যাবার কোনো জায়গা নেই।“
শুনানিতে জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, কারাকর্তৃপক্ষের হেফাজতে খালেদা জিয়ার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না। তার উন্নত চিকিৎসা দরকারআর ছয় মাস কারাগারে থাকলে বেগম খালেদা জিয়া লাশ হয়ে ফিরবেন।
বেগম জিয়ার জামিন নাকচের রায় ঘোষণার পর সরকারের প্রধান আইনকর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বেগম জিয়ার হাটুর অসুস্থতার জন্য তার সম্মতি নিয়ে তাকে এ্যাডভান্সড চিকিৎসা দেবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
এ প্রসঙ্গে এ মামলায় প্রধান আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে সরকার তার প্রতিহিংষা চরিতার্থ করতে চায় বলেই আজ তাকে জামিন দেয়া হয় নি। তিনি জানান, সিনিয়র আইনজীবিদের প্যানেল বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবি এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, এটা নজিরবিহীন। বাংলাদেশে তো নয়ই ; পার্শবর্তী কোন দেশেও এধরনের ক্ষেত্রে জামিন প্রত্যাখ্যানের নজির নেই।
বেগম জিয়ার জামিনের শুনানীকে কেন্দ্র করে আদালত অঙ্গণে আগ থেকেই ব্যাপক ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় ।
আজ জামিন শুনানি চলাকালে আদালতের বাইরে আইনজীবি সমিতি ভবনের করিডোড়ে আওয়ামী-পন্থী ও বিএনপি-পন্থী আইনজীবিরা মুখোমুখী অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি শ্রোগান দেয়া। “খালেদাজিয়ার মুক্তি চাই” এবং “আদালতের টালবাহানা চলবে না” বলে বিএনপি-পন্থীদের শ্লোগানের জবাবে আওয়ামীপন্থীরা “জয়বাংলা” এবং “আদলতে বিশৃংখলা চলবে না “ বলে সোচ্চার থাকে।
বেগম জিয়ার জামিন শুনানিকে ঘিরে উত্তেজনার মাঝে গতকাল বিকেলেও হাইকোর্ট চত্তরে তিনটে মোটর সাইকেলে আগুন দেবার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএনপি মহাসচীব মির্জা ফখরুল সহ ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে আজ শাহবাগ থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।