আওয়ামী লীগের মামলা: তাপসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইশরাকের চিঠি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i76976-আওয়ামী_লীগের_মামলা_তাপসের_বিরুদ্ধে_ব্যবস্থা_নিতে_ইশরাকের_চিঠি
বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকার গোপীবাগে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জানুয়ারি ২৬, ২০২০ ২২:১৬ Asia/Dhaka
  • সংঘর্ষের সময় আহত এক সাংবাদিক
    সংঘর্ষের সময় আহত এক সাংবাদিক

বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকার গোপীবাগে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আহমেদ বাদী হয়ে বিএনপির ৪০-৫০ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এই মামলা দায়ের করেছেন। তবে, বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলের কর্মী আবদুর রহিম থানায় মামলা করতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম। পরে বিএনপির আইনজীবীরা ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, “পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নিলে আগামীকাল থানায় মামলা করবেন আইনজীবীরা।”

এছাড়া, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের চিঠি

এদিকে, গণসংযোগ শেষে বাসায় ফেরার সময় হামলা এবং একই থানা এলাকায় নৌকার একাধিক নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন।

ইশরাক হোসেনের সই করা এ দুটি চিঠি রোববার রাত ৮ টা চল্লিশ মিনিটে পুলিশ কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে পৌঁছে দেয়া হয়।

পুলিশ কমিশনারকে দেয়া চিঠিতে ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘আজ (রোববার, ২৬ জানুয়ারি) আনুমানিক দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে গণসংযোগ শেষে বাসায় ফেরার সময় সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের নির্মাণাধীন ভবনে স্থাপিত নৌকার মেয়রপ্রার্থী ফজলে নূর তাপস ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দীন আহমেদের নির্বাচনি ক্যাম্প থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠি, রড, জিআই পাইপ ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। অপরদিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা তাদের আরেকটি গ্রুপ আমি এবং আমার সঙ্গে থাকা কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ সময় প্রায় ২০/২৫ রাউন্ড গুলি চালায়। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় একটি বেসরকারি টেলিভিশনে কর্মরত একজন ক্যামেরাম্যান ও একজন রিপোর্টার এবং একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত একজন সাংবাদিক আহত হন। আমার বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থকও গুরুতর আহত হন।’

বিষয়টি আমলে নিয়ে নৌকার প্রার্থী ফজলে নূর তাপস ও তার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ জানান ইশরাক।

রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লেখা আলাদা চিঠিতে ইশরাক বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী ফজলে নূর তাপস নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে ঢাকা দক্ষিণ চিঠি করপোরেশনের প্রতিটি থানায় একাধিক ক্যাম্প স্থাপন করেছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিষ্কার লঙ্ঘন।’

বিষয়টি আমলে নিয়ে নৌকার প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানান ইশরাক হোসেন।

রোববার দুপুরে রাজধানীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারণা ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনাটি ঘটে। এতে তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইশরাক অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর নেতাকর্মীরা তার প্রচারে হামলা চালিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে আওয়ামী লীগ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে বিএনপিই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।