ঢাকায় ৫ থেকে ৭ ভাগ ভোট পড়েছে- দাবি বিএনপির, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i77146-ঢাকায়_৫_থেকে_৭_ভাগ_ভোট_পড়েছে_দাবি_বিএনপির_নতুন_কর্মসূচি_ঘোষণা
বাংলাদেশের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাঁচ থেকে সাত শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। আজ (রোববার) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০ ১৬:২৫ Asia/Dhaka
  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাঁচ থেকে সাত শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। আজ (রোববার) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

যে ভোট পড়েছে সেগুলো জনগণ দিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, 'না কখনোই না। আমার কাছে রিপোর্টগুলো আছে, ম্যাক্সিমাম ৫/৬ শতাংশ অথবা ৭ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।'

ভোটের সংখ্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এই সিস্টেমের উপরেই জনগণের আস্থা চলে গেছে। আওয়ামী লীগের অধীনে এবং এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় কোনো নির্বাচনেই জনগণের কোনো আস্থা নেই। সে কারণেই ভোটের সংখ্যা এত কম।'

আজ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, ঢাকা উত্তরে ভোট পড়েছে ২৫.৩ শতাংশ। আর দক্ষিণে ২৯.০০২ শতাংশ ভোট পড়েছে। দুই সিটি মিলিয়ে গড়ে ২৭.১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সাংবাদিকরা বিএনপির  মহাসচিবের কাছে কম ভোটারের উপস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফলাফল তৈরির জন্য তারা একটা অঙ্ক বা অনুপাত মিলিয়েছেন। যেটা তারা প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ পুরোপুরি একটা মিডিয়া কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করেছে

তিনি বলেন, একটা নতুন কৌশল উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে তারা আবারও ঢাকা সিটি নির্বাচনে পুরোপুরিভাবে ইচ্ছেমতো তাদের ফলাফল প্রকাশ করল। (রাত) সাড়ে ৭টা, ৮টার কিছুটা সময় ফলাফল প্রকাশ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আমাদের মনে হয়েছে, এক ধরনের মিডিয়া ক্যু সেটা বোধহয় সংঘটিত হয়েছে। আমরা ঠিক জানি না, প্রাথমিকভাবে যে ফলাফলগুলো কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয়েছে, এরপর থেকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে

এ সময় ইভিএম নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইভিএম সিস্টেমের ওপর জনগণের আস্থা চলে গেছে। আওয়ামী লীগ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত কোনো নির্বাচনেই জনগণের কোনো আস্থা নেই। কারণেই ভোটের হার এত কমেছে

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব বলেন, আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনে বিশ্বাসী। এবং সে জন্যই আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। ভবিষ্যতে অবস্থার উপরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এরপর আমরা কী করব

সাধারণত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে ভোটগ্রহণ করা, কোন পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করবেন সেটা নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে- উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সকালবেলায় নৌকায় ভোট দিয়ে তিনি সবাইকে নৌকায় ভোট দিতে বলেন তেমনই নির্বাচন কমিশন কোন পদ্ধতিতে ভোট নেবে, না নেবে সেটাও তিনি নির্দেশ করে দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া দেশের কিছুই নড়ে না সুতরাং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বগুলো তাঁকেই পালন করতে হয়

বিএনপির ডাকা আজকের হরতাল শুধু ভোট ডাকাতি ইভিএমে কারচুপির জন্যই না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, এই হরতাল ছিল সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মানুষের মুক্তির জন্য আমরা মনে করি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতালে সাড়া দিয়েছে

নতুন কর্মসূচি

হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি জানান, নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার ঢাকার দুই সিটির থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। ওইদিন সকাল ১১টায় দুই সিটির দুই মেয়র প্রার্থী ভোট কারচুপির ডকুমেন্টসসহ মিডিয়ার সামনে আসবেন কথা বলতে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।