নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
মাহমুদুল হাসান জয়ের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বিশ্বসেরা হওয়ার মঞ্চে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুখোমুখি হবে আকবর আলীর দল।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে আজ (বৃহস্পতিবার) টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান করে কিউইরা। জবাবে ৪৪.১ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৫ রান করে জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।
কিউইদের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৩২ রানের মাথায় দুই ওপেনার তানজিদ হাসান (৩) ও পারভেজ হোসেন ইমনকে (১৪) হারায় বাংলাদেশ। এরপরই ৬৮ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল হাসান জয় ও তৌহিদ হৃদয়। দুর্দান্ত খেলতে থাকা হৃদয় আউট হন ব্যক্তিগত ৪০ রানে। এরপর মাহমুদুল আরেকটি বড় জুটি গড়েন শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে। দুজনের ১০১ রানের জুটি ভাঙে মাহমুদুলের সেঞ্চুরির পরপরই। অবশ্য ততক্ষণে জয়ের নিঃশ্বাস দূরতে চলে আসে বাংলাদেশ। ১২৭ বলে ১০০ রান করে টাসকফের বলে আউট হন মাহমুদুল। তার অনবদ্য ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৩ চারে। এরপর বাংলাদেশকে জয়ের ফিনিংশটা দেন শাহাদাত (৪০) ও শামিম হোসেন (১)।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বোলিং করতে নেমে শুরুতেই সাফল্য পায় আকবর আলীর দল। দলীয় পাঁচ রানে কিউই ওপেনার মরিওকে ফেরান শামীম হোসেন। শামীমের বলে তানজির হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে এক রানে ফিরে যান মারিও। এরপর ১২তম ওভারে আরেক ওপেনার হোয়াইটকে ফেরান রাকিবুল। উইকেটের সঙ্গে রানের গতিও আটকে রাখেন বাংলাদেশি বোলাররা। সাজঘরে ফেরা হোয়াইট ৪৩ বল খেলে করেন ১৮ রান।২১তম ওভারে তিনে নামা ফার্গুসকেও ফিরিয়ে দেন শামীম। ৫০ বল খেলে ২৪ রান করেন তিনি। এরপর টাসকফকে ফিরিয়ে দেন হাসান মুরাদ। তবে নিকোলাস ও গ্রিননেইলের জুটিতে অনেকটা এগিয়ে যান কিউই যুবারা। ১৪১ রানে সেই জুটি ভাঙেন শরিফুল। ফেরার আগে ৪৪ রান করেন নিকোলাস।
শেষদিকে কিছুটা ঝড় তুলে কিউইদের রান ২০০ পার করতে বড় ভূমিকা রাখেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হুইলার-গ্রিনাল। অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসে ৮৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংস। এর মধ্যে আছে ৫টি চার ও ২টি ছক্কার মার।
বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। ২টি করে উইকেট গেছে শামিম হোসেন ও হাসান মুরাদের ঝুলিতে। বাকি উইকেট রাকিবুল হাসানের।
বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলে দেয়া সেঞ্চুরিতে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। ম্যাচ শেষে এই উঠতি তারকা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি প্রান্ত বদল করে খেলতে। যে পরিস্থিতিই থাকুক, দলে আমার ভূমিকা ছিল দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা, শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকা। প্রান্ত বদল করে খেলে যাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘যখন দল দ্রুত দুই উইকেট হারায়, তখন আমার চেষ্টা ছিল প্রান্ত বদল করে খেলা। সবশেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজে আমি ৯৯ রানে আউট হয়েছিলাম। কিন্তু সেই ভুল এই ম্যাচে করতে চাইনি। এক-দুই রান করে নিয়েছি।’#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।