মনোজগতে ভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলেছে করোনাভাইরাস, সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ
বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের ঘরবন্দি থাকা, জীবনের শঙ্কা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা- এগুলো একসঙ্গে অথবা যেকোনো একটি বিষয় মানসিক পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গতকালই নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলেছেন, এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখতে হবে। ঘরে থেকে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করারও পরামর্শ দিয়েছেন ডা. নাসিমা সুলতানা।
ওদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আফরোজা হোসেন রেডিও তেহরানকে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে প্রতিটি মানুষই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অধিক মাত্রায় স্বাস্থ্যগত, আর্থিক বা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এ অবস্থায় হতাশ না হয়ে ইতিবাচক চিন্তায় মনোনিবেশ করতে হবে।
তিনি বলেন, এ সময় গণমাধ্যমে করোনার খবর পড়ে বা টেলিভিশন দেখে মানসিকভাবে বিষাদাক্রান্ত হওয়ার বদলে সামাজিক মাধ্যমেও ইতিবাচক চিন্তা প্রকাশ করে মনের বিষাদ দূর করার চেষ্টা করা ভালো। পরিবারের সদস্য ও বিশেষ করে সন্তানদের সাথে ব্যস্ত থেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা যায়। তাছাড়া ফোনে আত্মীয়, স্বজন, বা বন্ধুদের সাথে কথা বলেও মনকে চাঙ্গা রাখা যায়।
ড. আফরোজা হোসেন আরো বলেন, এখন বিশেষ করে রমজান মাসে মুসলমানদের আরো বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহকে স্বরণ করে মানসিক প্রশান্তি অর্জন করা যাবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞরা তাদের সদ্য প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ এরকম মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হয়নি। জরুরিভিত্তিতে সরকারগুলো এ সংকটের বিষয়টি আমলে না নিলে আরও বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।
বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ওপর গবেষণা করে জাতিসংঘের প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শারীরিক বিচ্ছিন্নতা সাধারণ মানুষকে অবসাদগ্রস্ত করে তুলেছে। তারা সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে ভীত থাকেন সর্বক্ষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৃত্যুভীতি এবং প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কা।
অপরদিকে, শিশু ও তরুণরা বন্ধুদের থেকে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরবন্দি থাকায় তাদের মনোজগতে ভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়েছে। শিশুরা উদ্বিগ্ন ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। আর প্রতিদিন চোখের সামনে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু দেখতে গিয়ে খোদ স্বাস্থ্য কর্মীদের মাঝেও মানসিক চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। আতঙ্ক, ভয়, দুঃস্বপ্ন তাদেরকেও পেয়ে বসেছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।