করোনাভাইরাস
বাংলাদেশে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন ‘পিক টাইম আসছে’
-
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২২ জন। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪০৮ জনে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৭৭৩ জন করোনা রোগী। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেন ২৮ হাজার ৫১১ জন।
আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ এবং তিন জন নারী। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আট জন, সিলেট বিভাগে তিন জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা শহরের আট জন, ঢাকার অন্যান্য স্থানের একজন, নারায়ণগঞ্জের একজন, চট্টগ্রাম শহরের চার জন, কক্সবাজারের, একজন, চাঁদপুরের তিন জন, ময়মনসিংহ শহরের একজন, সিলেট বিভাগের সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন এবং সিলেটের অন্যান্য স্থানের দুই জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬ জন, বাড়িতে মারা গেছেন পাঁচ জন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন একজন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই কর্মকর্তা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১০ হাজার ১৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ১০ হাজার ২৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯৫ জন করোনা থেকে সুস্থ হওয়ায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৬০২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনের নেওয়া হয়েছে ১৫৪ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনের আছেন ৩ হাজার ৯৮৭ জন। এছাড়া আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৩ জন, এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৬ জন। যারা কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন তারা সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক। তারা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারবেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ থাকবে, তারা যেন এখনো নিজ ঘরে থাকেন।
এদিকে, দেশে করোনা সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে বলে সতর্কতা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, “আমরা করোনা সংক্রমণের ৭০ দিন পার করেছি। আমি মনে করি, আমরা পিক টাইমের দিকে যাচ্ছি। দৈনিক শনাক্তের হার কমতে শুরু করলে বলতে পারবো যে পিকে পৌঁছে গেছি। এখন সংক্রমণ বাড়ছে। তারপরও আমি মনে করি, তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে না, ঠিকই আছে।”
আজ (বৃহস্পতিবার) সচিবালয়ে বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত করোনার আপৎকালীন ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ গ্রহণকালে এ কথা বলেন তিনি। কেবলমাত্র মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে এ ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।
করোনা রোগীদের চিকিৎসার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই রোগী বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে আমরা অন্য দেশের তুলনায় এখনও ভালো আছি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়তই এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন, পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সারাদেশে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল করেছি। আমাদের কমিটমেন্ট ছিল, মে মাসে প্রতিদিন ১০ হাজার টেস্ট করার, দু’দিন আগেই সেটা হয়ে গেছে।’
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশনে বর্তমানে সাড়ে ৩ হাজারের মতো করোনা রোগী আছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই রোগের সঠিক চিকিৎসা নাই, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া অনুসরণ করতে হবে। বাজারঘাটে যাতে লোক কম যায়। (ঈদ ঘিরে) ফেরিঘাটে মানুষ জটলা পাকায়, সেখানে সংক্রমনের একটা আশঙ্কা আছে। সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করেছে তাদের ঠেকাতে। তবুও মানুষ চলে যাচ্ছে। মায়েরা কাপড় চোপড় কিনতে যাচ্ছে, ছোট বাচ্চাদেরও সাথে নিয়ে যাচ্ছে। আমি অনুরোধ করব, আপনারা যাবেন না, বাচ্চাদের নিয়ে যাবেন না। নিজেরাও আক্রান্ত হবেন, শিশুরাও আক্রান্ত হয়ে যাবে। ঈদ তখন আর আনন্দের থাকবে না, নিরানন্দ হবে। দেখা যাবে একটা বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে। এই ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকতে হবে।’
বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস প্রস্তুতকৃত রেমডেসিভির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করবেন। বেক্সিমকো প্রথম কোম্পানি যারা দেশে এই ওষুধটি তৈরি করেছে। খুবই মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধটি দেওয়া হবে। সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বিশেষজ্ঞরা। আশা করি এটি দিয়ে মানুষের উপকার হবে, জীবন রক্ষা হবে। কোভিড-১৯ রোগের ভ্যাকসিন বা ওষুধ এখনও তৈরি হয়নি। বেশ কিছু ওষুধ বাজারে এসেছে। এসব ওষুধ কিছু কিছু মাত্রায় কাজ করে, কিন্তু শতভাগ কাজ হচ্ছে না।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।