করোনার সময় একইদিনে দুই সহযোদ্ধাকে হারানো খুবই কষ্টদায়ক: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80680-করোনার_সময়_একইদিনে_দুই_সহযোদ্ধাকে_হারানো_খুবই_কষ্টদায়ক_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের দু’জন নেতার একই দিনে করোনায় মৃত্যুর ঘটনায় শেক প্রকাশ করে বলেছেন, করোনাভাইরাস সবকিছুই কঠিন করে তুলেছে। এমন একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যে, আমাদের দলের কেউ মারা গেলে তার পরিবারের কাছে ছুটে যাব, একটু সান্তনা দেবো, সেই সুযোগ পাচ্ছি না।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জুন ১৪, ২০২০ ১৪:৪৫ Asia/Dhaka
  • জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের দু’জন নেতার একই দিনে করোনায় মৃত্যুর ঘটনায় শেক প্রকাশ করে বলেছেন, করোনাভাইরাস সবকিছুই কঠিন করে তুলেছে। এমন একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যে, আমাদের দলের কেউ মারা গেলে তার পরিবারের কাছে ছুটে যাব, একটু সান্তনা দেবো, সেই সুযোগ পাচ্ছি না।

আজ (রোববার) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে পাশে থেকে যারা সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন, তারা একে একে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। নাসিম ভাইয়ের পর শেখ আব্দুল্লাহ ভাইও চলে গেলেন। বর্তমান করোনা যুদ্ধের সময় একইদিনে দুই সহযোদ্ধাকে হারানো খুবই কষ্টদায়ক। 

রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়াত দুই নেতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশে ফেরার পর পদে পদে আমাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এসময় যে দুজনকে আমি সব সময় পাশে পেয়েছি একই দিনে তাদের হারালাম। 

মোহাম্মদ নাসিম

তিনি বলেন, আমাদের কোনো নেতা-কর্মী মারা গেলে, আমরা ছুটে গেছি তার জানাজায়। আমরা কবরে ফুল দেই ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করি, সমবেদনা জানাই। এখন এমনই অস্বাভাবিক পরিবেশ যে আমরা এবার সেটা করতে পারছি না। সেটাই হলো সবচাইতে বড় কষ্টকর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত উন্নত-অনুন্নত দেশের সবাই ভয়ে আছেন। এই আতঙ্কটা এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, যেটা দুঃখজনক। করোনা পরিস্থিতিতে মোকাবেলায় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি  বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি অন্ততপক্ষে দেশের মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। যে এলাকাটায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে লকডাউন করছি। পাশাপাশি করোনার ভয়ে মানুষগুলোকে তো না খেয়ে মারতে পারি না। তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের জীবনযাত্রা যেন চলে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করছি।

শেখ মো. আব্দুল্লাহ

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দারিদ্র্যের হার মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই আমরা কমিয়ে এনেছি। আমাদের জিডিপি বেড়ে গিয়েছিল। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছিলাম। কিন্তু এমন একটা অদৃশ্য শক্তি করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বটাকে স্থবির করে দিয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী, ডা. হাবিবে মিল্লাত ও মৃণাল কান্তি দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিতে শোক প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। এরপর এক মিনিট নিরবতা পালন ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর দিনের অন্যান্য কার্যসূচী স্থগিত করে অধিবেশন মুলতবি করা হয়।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪