মহামারিকালে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে উদ্বেগ ‘ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ’র
-
কোরবানির পশুর হাট (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মাঝে জনবসতিপূর্ণ নগর-মহানগরে কোরবানির পশুর হাট বসানোর সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন-‘ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ’।
সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা.রশিদ-ই-মাহবুব এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে শারীরিক দূরত্ব রক্ষার ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপি স্বীকৃত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং প্রমাণিত সত্য হলো- যে সমস্ত দেশ এই পদক্ষেপ ঠিকভাবে কার্যকর করতে পেরেছে, সে সব দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতা পেয়েছে। এই দেশগুলোতে সকল উপাসনালয়সহ যেখানেই ঘনিষ্ঠ লোকসমাগম হয় সেখানেই সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে সৌদি আরবে মাত্র কয়েকদিন পূর্বে কারফিউ উঠিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তির নামাজ পড়তে নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এবার হজে শুধুমাত্র সৌদি আরবস্থ কমবেশি ১০০০ জনকে হজের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
এরকম অবস্থায় আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিশেষ করে জনবহুল শহর-নগরে পশুর হাট বসলে কোনভাবেই শারীরিক দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশুর হাট বসলে করোনা সংক্রমণের হারের সাথে মৃত্যু হারও বৃদ্ধি পাবে, বৃদ্ধি হবে গরীব মানুষের ভোগান্তি। অর্থনীতিবিদদের গবেষণা বলছে- পূর্বের গরীবের সঙ্গে করোনায় আরো প্রায় পৌনে দুই কোটি গরীব লোক যোগ হবে অর্থাৎ ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আরো বাড়বে।
চিকিৎসক সমাজ মনে করেন, করোনা মহামারীর এই সংকটকালে পশু কোরবানি পরিহার করে দুঃস্থ জনগণের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা ও অর্থসহায়তা করার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কেউ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেও যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়িতে পোষা পশু অথবা অনলাইনে কিংবা সরাসরি গৃহস্থের নিকট থেকে পশু ক্রয় করে কোরবানি দেবার ব্যবস্থা করলে করোনা সংক্রমনের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
‘ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ’ তাদের বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেছেন, দেশের সরকারি/বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হতে পারছে না, অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে রোগীর করুণ মৃত্যু ঘটছে। এরূপ পরিস্থিতিতে কাজ হারানো, উপার্জনহীন, গরীব ও হতদরিদ্র মানুষের ঘরেঘরে খাবার ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিয়ে আরো কঠোর ও কার্যকর লকডাউন ব্যবস্থার দরকার। তা না করে সরকার পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ইজারাদারদের পকেট ভারি হবে বটে কিন্তু করোনার সংক্রমণ মারাত্মক রূপ নেবে ও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হবে।
এ প্রেক্ষিতে চিকিৎসক সমাজ অবিলম্বে কেরবানির পশুর হাট বসাবার মত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯