বাংলাদেশে করোনায় আরো ৩ হাজার ১১৪ জন আক্রান্ত, মৃত্যু আরো ৪২ জনের
বাংলাদেশে একদিনের ব্যবধানে নতুন করে ৩ হাজার ১১৪ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া এ সময়ে আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৬৮ জনের মৃত্যু হলো। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হলো ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জন।শুক্রবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১৪ হাজার ৬৫০টি নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ১১৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১.২৬ শতাংশ।
আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৮ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ১৯ জন। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২১.৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। ডা. নাসিমা জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪২ জনের। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ। সর্বশেষ মারা যাওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। এদের মধ্যে ৩১ জন হাসপাতালে এবং ১১ জনের বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আগে থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকা আরও ১ হাজার ৬০৬ জন শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন জানিয়ে ডা. নাসিমা বলেন, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া ৬৮ হাজার ৪৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩.৫১ শতাংশ।
ওয়ারীতে লক-ডাউন শনিবার থেকে
জনসংখ্যার অনুপাতে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা বেশি থাকায় রাজধানীর ওয়ারীতে আগামীকাল শনিবার থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে লকডাউন।
স্বাস্থ্য অধিদতর নির্দেশিত ম্যাপিংয়ের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই লকডাউন বাস্তবায়ন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার (৪ জুলাই) থেকে ওয়ারীর আটটি এলাকায় পরবর্তী ২১ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হবে।
লকডাউন বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদফতর, পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনগুলোও এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে লকডাউন বাস্তবায়ণ নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন দুইটি সমস্যা চিহ্নিত করেছে-প্রথমত,এলাকাটির আয়তন বিবেচনায় জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি; এবং দ্বিতীয়ত, এলাকাটিতে প্রচুর ব্যবসায়ীদের বসবাস।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করা যাবে কিংবা করা হবেও। কিন্তু বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকার রাস্তাঘাট জনশূন্য রাখা কঠিন হতে পারে। তবে এর চেয়েও চ্যালেঞ্জিং হবে এলাকার ব্যবসায়ীদের আটকে রাখা। কারণ তাদের কাছে ব্যবসা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সামনে ঈদুল আজহা থাকায় সেই গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ঈদের কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাইলে লকডাউন বাস্তবায়ন শঙ্কার মুখে পড়বে। তবে প্রশাসন লকডাউন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/ ৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।