বাংলাদেশে চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে চীনা করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার
অবশেষে চলতি মাস থেকেই বাংলাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে চীনের সাইনোভ্যাকের তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার। দেশের সাতটি সরকারি কোভিড হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।
এ ভ্যাকসিন ট্রায়ালের সাথে যুক্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র (আই সিডিডিআরবি)- এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী কাদরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, এটির কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে না। বাংলাদেশে চার হাজার দুইশ' স্বাস্থ্যকর্মীর উপর এই ট্রায়াল দেয়া হবে। আর ফলাফল পেতে সময় লাগবে ৬ থেকে ৮ মাস। চীনের এই ভ্যাকসিন পরীক্ষায় সফলতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশের চুক্তিবদ্ধ কোন ফার্মাসিউটিক্যলস কোম্পানি এটি উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারবে।
এদিকে, বাংলাদেশে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় করোনা রোগী শনাক্তের হার কমছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে সপ্তাহওয়ারি হিসাবে টানা সাত সপ্তাহ সংক্রমণ শনাক্তের হার কমতির দিকে।
আগের দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুটোই কমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯ জন। আর করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯২৯ জন। আজ (শুক্রবার) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবারের বিজ্ঞপ্তিতে কোভিড-১৯ রোগে ৩২ জনের মৃত্যু এবং ২ হাজার ১৫৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হবার কথা জানানো হয়েছিল।

আজকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৪১২ জনের। আর করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৬১৫ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২১১ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯১ জন।
তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে সংক্রমণের হার এখনো বেশি। করোনা সংক্রমণ শনাক্তের হার যে সব দেশে বেশি রয়েছে, তাদের মধ্যে শীর্ষ দশটির তালিকায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
ওদিকে, মাস্ক ছাড়া বাইরে না যেতে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়াসহ নানা মাধ্যমে প্রচার চালানো হলেও অধিকাংশ মানুষই এখন আর তা মানছেন না। দিন যত যাচ্ছে, ততই মানুষ মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন হচ্ছে।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, করোনা মহামারি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে সচেতনতার দিক থেকে গা-ছাড়া ভাবের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
কোনো দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশক আমলে নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো রোগী শনাক্তের যে হার, তাতে বাংলাদেশ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা থেকে বেশ দূরে। টানা তিন সপ্তাহ যদি পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা যায়। সে ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে প্রতিদিন ন্যূনতম ২০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করতে হবে এবং দেশের সব জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।