করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর
আজ (সোমবার) সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২৫ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন ও নারী আটজন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ছয় হাজার ৯২ জনে। বিভাগ অনুযায়ী, মৃত ২৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচ জন, খুলনায় তিন জন, বরিশালে দুজন, সিলেটে তিন জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে দু'জন রয়েছেন।
করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫টি পরীক্ষাগারে ১৪ হাজার পাঁচটি নমুনা সংগ্রহ ও ১৪ হাজার ৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৬৮৩ জন।
ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল চার লাখ ২১ হাজার ৯২১ জনে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৪টি।
আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। রোগী শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ।
খুলনায় বসেছে মোবাইল কোর্ট
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়া ব্যক্তিদের আটক ও জরিমানা করা হচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে খুলনা নগরের দুটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রথম এক ঘণ্টাতেই অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া আটজনের সাড়ে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুপ আলী বলেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথম পর্যায়ে সংক্রমণ ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অনেককে জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আসে নি। এ কারণেই এবার এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাস্ক না পরে বাইরে আসা ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে আটক করা হচ্ছে। পরে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
এদিকে, কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ মোকাবিলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি জারী করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রোববার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মসজিদে সব মুসল্লির মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করে প্রবেশের জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে মসজিদের মাইকে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে মসজিদের ফটকে ব্যানার প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে মসজিদ কমিটিকে।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারিরা আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরে উপাসনালয়ে প্রবেশ করবেন। মাস্ক পরে উপাসনালয়ে প্রবেশের জন্য প্রধান ফটকে ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উপাসনালয় কমিটিকে নিশ্চিত করতে হবে। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ বিষয়ে সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। স্লোগানটি সব উন্মুক্ত স্থানে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে পোস্টার বা ডিজিটাল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখতে হবে; কিছুক্ষণ পরপর সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়াসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।
দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাইকের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ওপরে বর্ণিত ঘোষণাসমূহ আবশ্যিকভাবে প্রচার অব্যাহত রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় ট্রাস্ট ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও উপাসনালয়ের পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/এনএম/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।