জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তিথি সরকার গ্রেপ্তার
পাটগ্রামে কুরআন অবমাননার বিষয়টি ছিল গুজব
সম্প্রতি লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যা ও লাশ পোড়ানো ঘটনায় গঠিত সরকারী তদন্ত কমিটি “অবমাননার” কোনো সত্যতা পায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন। এ সময় তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।কমিটি জানিয়েছে, কোরআন অবমাননার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এটি ছিল একটি গুজব।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর বিকালে পাটগ্রাম উপজেলায় শহিদুন্নবী জুয়েলকে (৪৮) পিটিয়ে হত্যার পর লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক লাইব্রেরিয়ান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, শহিদুন্নবী জুয়েল ঘটনার দিন বিকেলে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে একজনকে সাথে নিয়ে বুড়িমারী বেড়াতে আসেন। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজ শেষে পাঠ করার জন্য মসজিদের অভ্যন্তরে তাকের ওপর থেকে কুরআন শরীফ নামানোর সময় অসাবধানতাবশত কুরআন শরিফ ও হাদিসের কয়েকখানা বই নিচে পড়ে যায়। এ সময় সেসব তুলে চুম্বনও করে তকের উপরে রাখেন জুয়েল।
বিষয়টি নিয়ে তার সাথে মুয়াজ্জিনের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে এলাকায় আচেনা হিসেবে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান রুবায়াত সুমনকে মসজিদের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে যান। সন্ধ্যায় পুরো বাজারে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে কুরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
এ সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ টেনে পাটগ্রাম-বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয় স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এ ঘটনায় নিহত জুয়েলের চাচাতো ভাই সাইফুল আলম, পাটগ্রাম থানার এসআই শাহজাহান আলী ও বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছেন।
তিথী সরকার গ্রেফতার
ওদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত ও ‘নিখোঁজ’ শিক্ষার্থী তিথী সরকারকে নরসিংদীর মাধবদী থেকে আটক করেছে সাইবার পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সাইবার পুলিশ সেন্টারের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তিথী সরকার তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় উস্কানিমূলক পোস্ট, কমেন্ট ও তথ্য শেয়ার করে। এ কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সমাবেশ করে।
গত ২৬ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিথী সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে।
তবে, এর আগে ২৩ অক্টোবর তিথী সরকার তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে জানিয়ে পল্লবী থানায় জিডি করেন (জিডি নং- ২৩৫৫)।#
পার্সটুডে/ এআরকে/১২