রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের দাম ঠিক করে দিল বাংলাদেশ সরকার
বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের বাজারে তেলেসমাতি কারবার চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। গত ছ’মাস ধরেই অস্থির রয়েছে ভোজ্যতেলের বাজার। নানা অজুহাতে দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছিল দাম। চলতি মাসে এ দাম বেড়ে ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে আসে।
এ অবস্থায় পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। গতকাল (মঙ্গলবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশন বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুচরা বাজারে প্রতি লিটারে খোলা সয়াবিনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন প্রতিলিটার বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়। এ ছাড়া পাম সুপার বিক্রি হবে ১০৪ টাকা লিটার দরে।
সভা শেষে ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন-সংক্রান্ত সরকারি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় কমিটি আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। ১৫ দিন পরপর দাম পুর্ণমূল্যায়ন করা হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারী কঞ্জুমারস এসোসিয়েশনের (ক্যাব) মহাসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া রেডিও তেহরানকে জানান, ব্যাবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে ভোজ্য তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা যাতে কার্যকর হয় সেটা তদারকির জন্য ক্যাবকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার সয়াবিন (খোলা) মিলগেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১১৫ টাকা । এ ছাড়া, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিলগেট মূল্য ১২৩, পরিবেশক মূল্য ১২৭ এবং খুচরা বিক্রয়মূল্য ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। অনুরূপভাবে, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন মিলগেট মূল্য ৫৯০, পরিবেশক মূল্য ৬১০ এবং খুচরা বিক্রয় মূল্য ৬৩০ টাকা। প্রতি লিটার পাম সুপার (খোলা) তেলের মিলগেট মূল্য ৯৫, পরিবেশক মূল্য ৯৮ এবং খুচরা বিক্রয়মূল্য ১০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন-সংক্রান্ত সরকারি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির গতকালের সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত মজুত সৃষ্টি করতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট না হয়। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত সভা করে ভোজ্যতেলের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।