বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী:
তিনি স্বপ্নদ্রষ্টাই ছিলেন না, জাতিগঠনের কুশলী কারিগরও ছিলেন: গওসোল আযম সরকার
-
(ডান থেকে) রাষ্ট্রদূত গওসোল আযম সরকার, কাউন্সেলর হুমায়ুন কবির ও ড. জুলিয়া মঈন (সি.সি)
বঙ্গবন্ধু কেবল স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টাই ছিলেন না, জাতিগঠনের কুশলী কারিগরও ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। এএফএম গওসোল আযম সরকার বলেন: 'জাতির জনকের যুগান্তকারী আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার আপামর জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পুনর্গঠিত হয় এবং দেশ ক্রমোন্নতির পথে এগিয়ে যায়।
গতকাল (১৭ মার্চ) বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিবস এবং জাতীয় শিশু দিবসে উপলক্ষে তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ওয়েবিনার কনফারেন্সে রাষ্ট্রদূত গওসোল আযম সরকার এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় -বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন: বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাঁর ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ এর আওতায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে গতকাল উদযাপিত হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিবস এবং জাতীয় শিশু দিবস। নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হয় দিবসটি। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির প্রথম পর্বের সূচনা হয়। দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী,পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। সবশেষে বিশেষ মুনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় দিবস উদযাপনের প্রথম পর্ব। বয়সভিত্তিক রচনাপ্রতিযোগিতা, ছবি অংকন এবং বঙ্গবন্ধুর উপর সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
সন্ধ্যায় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান হয় অনলাইনে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও স্বরচিত কবিতা পাঠ, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ভিত্তিক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। বিশিষ্ট কবি ও আবৃত্তিকার জনাব নাসির মাহমুদ, জনাব মোর্শেদ চৌধুরী, সৈয়দ মুসা রেজা, কবির চান্দ, জাহিদুল ইসলাম, গাজিী আব্দুর রশিদ, মোহাম্মদ আমির হোসেন প্রমুখ বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। শিশুদের অনুষ্ঠানে সারা আজমী, এসএম সিফাত হোসেন, গাজী তালহা অর্নিল, গাজী রোদসী স্বপ্নীল, মোহাম্মদ যায়েদ হোসেন প্রমুখ অংশগ্রহণ করে।
রাষ্ট্রদূত এএফএম গওসোল আযম সরকারের সভাপতিত্বে দূতালয় প্রধান জনাব মোঃ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অংশ নেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদ ফতুহি ফিরুজাবাদী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। দু'দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফিরোজাবাদী। এছাড়া ইরান প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক জনাব এজাজ হোসেন, দূতাবাসের কমার্সিয়াল কাউন্সেলর ড. জুলিয়া মঈন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুমিত আল রশিদ, ড. শহিদুল ইসলাম শোভন প্রমুখ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
ড. মীজানুর রহমান তার আলোচনায় বলেন: বঙ্গবন্ধু একটি চেতনার নাম, যে চেতনার আলোকে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। অধ্যাপক মাহমুদ ফতুহি ফিরুজাবাদ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন: তিনি বাঙালি জাতির এক যুগসন্ধিক্ষণে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ইরানের জাতীয় সংসদের ইরান-বাংলাদেশ সংসদীয় গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল নাসের, অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক কর্মী মাসিহ মীরহোসেইনিসহ অনেক বিশিষ্ট ইরানি নাগরিক ওয়েবিনারসহ অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করেন।#
পার্সটুডে/এনএম/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।