দোকানপাট খোলার দাবিতে আজও বিক্ষোভ; নির্দেশনা না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i89646-দোকানপাট_খোলার_দাবিতে_আজও_বিক্ষোভ_নির্দেশনা_না_মানলে_আইনগত_ব্যবস্থা_নেয়ার_হুমকি
লকডাউনের সময় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মানতে হবে। যারা এই নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
এপ্রিল ০৫, ২০২১ ১১:৫৬ Asia/Dhaka
  • লকডাউনে নিউমার্কেট খোলা রাখার প্রতিবাদে রাস্তায় ব্যবসায়ীরা
    লকডাউনে নিউমার্কেট খোলা রাখার প্রতিবাদে রাস্তায় ব্যবসায়ীরা

লকডাউনের সময় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মানতে হবে। যারা এই নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের করোনা ইউনিট পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, দেশের মানুষকে করোনা থেকে রক্ষা করতেই এই লকডাউন দেওয়া হয়েছে। কাজেই লকডাউন কার্যকর করতে আমাদের অবশ্যই সচেতন হয়ে সরকারি নির্দেশনাগুলো মানতে হবে।

সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সারাদেশের ডিসি, এসপি এবং সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষদের সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দোকানপাট খোলার দাবিতে নিউমার্কেটে বিক্ষোভ

লকডাউনে মার্কেট ও শপিং মল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে বিক্ষোভ করছেন ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচকসহ আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ীরা।

সাত দিনব্যাপী লকডাউনের প্রথম দিন আজ সোমবার নিউমার্কেটে শতাধিক দোকানমালিক, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা মিলে বিক্ষোভ করেন । তবে ব্যবসায়ীরা রাস্তা বন্ধ করেননি। যান চলাচল করছে।

ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, গত বছরের লকডাউনে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার পহেলা বৈশাখ ও আসন্ন  ঈদ-উল আযহাকে সামনে  রেখে  তারা দোকানে  নতুন মালামাল উঠিয়েছেন। লকডাউন থাকলে তাঁদের ব্যবসায় ধস নামবে।নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সবই চলছে। সবাই রাস্তায়। ঢিলেঢালা লকডাউন দিয়ে লাভটা কী? এ অবস্থায় আমাদের ব্যাবসার সুযোগ দেওয়া হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা হচ্ছে। কারও ঈদের অনেক আগে থেকে কাজ শুরু, কারও–বা ১০ দিন আগে থেকে। এখন পাইকারি ব্যবসার মুভমেন্ট থাকার কথা ছিল। 

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউন দিলে শতভাগ কার্যকর হোক। এখন আমাদের ওপর শুধু নিষেধাজ্ঞা কেন? আমরা তো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।’

সকালে গাউছিয়া দোকান মালিক ও কর্মচারী সমিতির লোকেরাও ওই এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা সেখানে স্লোগান দেন, ‘লকডাউন মানি না, মানব না’, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানব, দোকানপাট খুলব’।

ঈদ উপলক্ষে নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, এলিফ্যান্ট রোডে বড় কয়েকটি ব্র্যান্ডের দোকান, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স দেশের সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে। ব্যবসায়ীরা সারা বছর ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষ করে মুখিয়ে থাকেন।

রোজার আগে মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে গতকাল রবিবার বসুন্ধরা ও নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ ছিল। এ জন্য আশপাশের সড়কগুলোতে যানজটও হয়েছিল বেশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মানার পক্ষে, তবে মার্কেট বন্ধের বিপক্ষে।

রাজশাহীতে মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ

লকডাউনে রাজশাহীতে মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার সকালে ব্যবসায়ীরা সাহেববাজারে রাস্তায় নেমে পড়েন। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, সামনে ঈদ। এই সময়ে তাদের মার্কেট বন্ধ থাকলে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন।

সোমবার বেলা এগারোটার দিকে রাজশাহীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরা সাহেববাজারে আরডিএ মার্কেটের সামনে জড়ো হন। তারা মার্কেটের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে  সাহেববাজার বড় রাস্তা বন্ধ করে দোকান খুলে দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

পরে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম। তিনি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন।

এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং মার্কেট খোলা না থাকলে তারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানান। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে মার্কেট খোলা রাখার দাবি করেন নেতারা।

রাজশাহী কাপড় পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামিম জানান, গত বছর লকডাউনের কারণে তারা পরিবার নিয়ে ঠিকমতো ঈদ করতে পারেনি। লকডাউন চলছে চলুক, আমাদের একটা সময় বেঁধে দিলে ভালো হবে। সেই সময়ের মধ্যে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করতে চাই।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত। এটি স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আপনারা অনলাইনের মাধ্যমে মালামাল পাঠাতে পারবেন। দোকান খুলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ নাই। আমরা এ নিয়ে নতুন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না। আমরা আপনাদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলবো। #

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।