জীববৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে সুন্দরবন সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ: বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i93230-জীববৈচিত্র্য_রক্ষার_মাধ্যমে_সুন্দরবন_সম্প্রসারণে_সরকারের_বিভিন্ন_উদ্যোগ_বিশ্লেষক_প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সৃষ্টির পাশাপাশি সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে এর জীববৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে সুন্দরবন সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের উন্নয়নে যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১৬, ২০২১ ১৬:০৫ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সৃষ্টির পাশাপাশি সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে এর জীববৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে সুন্দরবন সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের উন্নয়নে যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে (২০২১ সালের বাজেট অধিবেশন) তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য বেগম সুলতানা নাদিরার প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। এ সময় সুন্দরবনের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া নানান পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সুন্দরবণ রক্ষার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব শরিফ জামিল। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন দরকার, এজন্য দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। দরকার স্বল্পমেয়াদী, মধ্য মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। তাছাড়া কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ যে সকল শিল্প সুন্দরবনের আশেপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে সে গুলিও বন্ধ করা দরকার। আজ সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে বর্তমান সরকার সবসময় আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। সুন্দরবনের বৃক্ষাদি এবং বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য তথা বন অপরাধ দমনের জন্য স্মার্ট পেট্রোলিংসহ নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে ২০১৫ সালে বাঘ শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালের শুমারিতে এর সংখ্যা ১১৪টি পাওয়া গেছে। সুন্দরবনের কার্বন মজুদের পরিমাণ ২০০৯ সালের ১০৬ মিলিয়ন টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ১৩৯ মিলিয়ন টন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীব বৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবনে এখন ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। বন্যপ্রাণীর মধ্যে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, আট প্রজাতির উভচর, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া আছে।

সরকার প্রধান সুন্দরবনের গাছপালা ও বন্যপ্রাণীকূল রক্ষার জন্য বনকর্মীদের যুগোপযোগী করে তুলে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।