আদালত থেকে বাড়ি ফিরলেন আবু ত্ব-হা আদনান ও তার দুই সঙ্গী
-
আদালতে আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার ২ সঙ্গী
বাংলাদেশের আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার দুই সঙ্গীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক কেএম হাফিজুর রহমান এ নির্দেশ দেন।
রাত সোয়া ৯টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয় থেকে তাদের আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান, তার সঙ্গী আব্দুল মুকিত ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজ।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে আবু ত্ব-হাকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে এবং বাকি দুজনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, আবু ত্ব-হা আদনানসহ চারজন ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন। রংপুর নগরের সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত মহানগর পুলিশের উপকমিশনারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপকমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হাসান। বিফ্রিংয়ে জানানো হয়, আবু ত্ব-হাসহ চারজন গাইবান্ধার ত্রিমোহনী এলাকায় ত্ব-হার বন্ধু সিয়ামের বাসায় ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে আদনানসহ তিনজনের পরিবারের কেউই এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত কিছু বলতে চাইছেন না।
১০ জুন রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আবু ত্ব-হা আদনানসহ ওই চারজন। এ ঘটনায় ১১ জুন ত্ব-হার মা রংপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন। ত্ব-হা সপরিবার রংপুর শহরে থাকেন। তাঁর মা আজেদা বেগম বলেছিলেন, তাঁর ছেলে অনলাইনে আরবি পড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুতবা দিতেন। ১০ জুন ঢাকার একটি মসজিদে খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রংপুর থেকে বিকেল চারটার দিকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে রওনা দেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই সঙ্গী আবদুল মুহিত ও ফিরোজ আলম। এ ছাড়া গাড়ির চালকের নাম আমিরউদ্দিন ফয়েজ। ওই দিন রাত ২টা ৩৬ মিনিটে আদনানকে তাঁর স্ত্রী ফোন করলে তিনি বলেন, তিনি ঢাকার গাবতলীতে আছেন। মুঠোফোনের চার্জ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এরপর থেকে ত্ব-হাসহ সবার মুঠোফোনই বন্ধ ছিল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপকমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হাসান বলেন, ত্ব-হাসহ চারজন ১০ জুন দিবাগত রাতে ঢাকায় পৌঁছান। এরপর ওই রাতেই আশুলিয়া হয়ে আবার রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে তাঁরা গাইবান্ধায় চলে যান। সেখানে ত্রিমোহনী এলাকায় ত্ব-হার বন্ধু সিয়ামের বাসায় এই আট দিন আত্মগোপনে থাকেন তাঁরা। ১০ জুন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গাবতলী অবস্থানকালেই তাঁরা মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। আট দিন তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধই ছিল।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গতকাল জুমার নামাজের পর ওই চারজনের মুঠোফোন চালু হয়। এরপর প্রত্যেকের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয় যে তাঁরা সবাই বাড়ি ফিরে এসেছেন। তবে ত্ব-হা আদনান নিজের বাড়ি না গিয়ে শ্বশুরবাড়ি রংপুর নগরের বাবু খাঁ মাস্টারপাড়া এলাকায় আজহারুল মণ্ডলের বাসায় ওঠেন। বাকি তিনজনের মধ্যে গাড়িচালক আমিরউদ্দিনের বাড়ি রংপুর নগরের আশরতপুর এলাকায়। আবদুল মুহিতের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুরের জায়গীর হাট এলাকায়। আর ফিরোজ আলমের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জের সাফিয়ানপাড়া এলাকায়।
ওই চারজনের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ ত্ব-হা আদনানকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে বেলা পৌনে তিনটায় রংপুর কোতোয়ালি থানায় নেয়। এ ছাড়া আমিরউদ্দিন ও আবদুল মুহিতকে বিকেল সাড়ে চারটায় ওই থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এদিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ ফিরোজকে উদ্ধার করে সেখানকার থানায় নেয়।#
পার্সটুডে//আশরাফুর রহমান/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।