বাংলাদেশের করোনায় আরও ২২৬ মৃত্যু, লকডাউন শিথিল করার সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ
বাংলাদেশ প্রতিদিনই দেখছে করোনার ভয়ংকর রূপ। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ভাঙছে করোনায় সংক্রমণ বা মৃত্যুর রেকর্ড।
করোনা সংক্রমণের এমন তীব্রতার মাঝে লকডাউন শিথিল করার সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এ বিশেষজ্ঞ কমিটি কঠোর বিধিনিষেধ আরও ১৪ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। একই সঙ্গে কোরবানির পশুর হাট বন্ধ রেখে, প্রয়োজনে ডিজিটাল হাট পরিচালনার ব্যবস্থা করতে পরামর্শ দিয়েছিল।
সোমবার রাতে জাতীয় কমিটির সভার এ পরামর্শ উপেক্ষা করেই ঈদ উদযাপনকে উপলক্ষ করে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সব বিধি-নিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪১তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রকাশ করে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে। সরকারি ঘোষণার দু’দিন পর কমিটি তাদের পরামর্শ প্রকাশ করল।

এদিকে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ২২ জুলাই পর্যন্ত আটদিন বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলে ঈদ পরবর্তী সময়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে লকডাউন শিথিল করার বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে।
ঈদ পরবর্তী সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা
এদিকে, ঈদ পরবর্তী সময়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন জানিয়েছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আটদিন বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আছি, বিধিনিষেধ শিথিল হলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।
অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, বিধিনিষেধ শিথিল করা হোক বা না হোক, যদি স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মেনে চলা হয়, তাহলে আশা করছি সংক্রমণ এতোটা ছড়াতে পারবে না। কিন্তু আমরা দেখেছি স্বাস্থ্যবিধি সেভাবে মানা হচ্ছে না। এভাবে যদি চলতে থাকে, তবে ঈদ পরবর্তী সময়ে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
করোনার সর্বশেষ তথ্য
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ২২৬ জন। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২৩৬ জন। দেশে এ নিয়ে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জন। আর মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৪ জন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৬০৪ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৪১টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৭ লাখ ৪৪ হাজার ৪২০টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ২২৬ জনের ৭৪ জনই ঢাকা বিভাগের। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৫২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪২, রাজশাহী বিভাগে ২৪, বরিশাল বিভাগে ৬, সিলেট বিভাগে ৫, রংপুর বিভাগে ১৩ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।