ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের জের: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দু’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন।
আজ শনিবার সকাল নয়টার দিকে এ সংঘর্ষের পরপরই জরুরিভাবে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা বসে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং আজ সন্ধ্যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্তে অধ্যাপক মতিউর রহমানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় মেডিকেলের প্রধান ছাত্রাবাসে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীদের দুজনকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীরা মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে মহিবুল হাসানের অনুসারী এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করা হয়।
চট্রগ্রামের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারধরের ঘটনায় হাসপাতাল, কলেজ ক্যাম্পাস এবং প্রধান ছাত্র হোস্টেল জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অপরদিকে, সিলেট জেলার কানাইঘাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এম আবদুল্লাহ আল হাদী শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীর হামলার শিকার হয়েছেন।তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৩টি সেলাই পড়েছে। আবদুল্লাহ আল হাদী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন৷ এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় একটি মামলা রুজু হয়ছে।
এম এম আবদুল্লাহ আল হাদী তার মামলার আবেদনে বলেছেন, তিনি সিলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খানের সঙ্গে দেখা করার জন্য। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ডাস ক্যাফেটেরিয়ায় চা পান করার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্র আমির হামজা, জগন্নাথ হলের ছাত্র পলাশ রায় ওরফে সৌরভ ও ঢাকা কলেজের ইন্টারন্যাশনাল হলের ছাত্র মো. রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আট-নয়জন তাকে ঘিরে ধরে৷ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা হাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করে।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার জানান, তাঁরা এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্তের পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।