চীন কেন ইয়েমেনে মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করছে?
https://parstoday.ir/bn/news/event-i153820-চীন_কেন_ইয়েমেনে_মার্কিন_পদক্ষেপের_সমালোচনা_করছে
পার্সটুডে-ইয়েমেনে মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করলো চীন।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
নভেম্বর ০৮, ২০২৫ ২০:২৬ Asia/Dhaka
  • জাতিসংঘে চীনের উপ-প্রতিনিধি সান লি
    জাতিসংঘে চীনের উপ-প্রতিনিধি সান লি

পার্সটুডে-ইয়েমেনে মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করলো চীন।

 

পার্সটুডে আরও জানায়, জাতিসংঘে চীনের উপ-প্রতিনিধি সান লি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তার মার্কিন প্রতিপক্ষের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন: ওয়াশিংটন ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং নিরীহ জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধির দাবির জবাবে চীনা কূটনীতিক এই বক্তব্য দেন। আমেরিকা দাবি করেছিল ইয়েমেনে যে "দ্বৈত-ব্যবহার" যন্ত্রাংশ প্রবেশ করেছে এবং দেশটির বাহিনী তাদের অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহার করে সেগুলোর উৎপত্তি চীন।

বেইজিংয়ের স্বচ্ছ অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে, জাতিসংঘে চীনের উপ-প্রতিনিধি আরও বলেছেন: চীন সর্বদা সামরিক পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সতর্ক এবং দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে এসেছে এবং ড্রোনসহ দ্বৈত-ব্যবহারের পণ্য রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম এবং মুক্ত বাজারের নীতির ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সাথে চীনা কোম্পানিগুলোর স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা রয়েছে। অভিযোগ বা চাপ প্রয়োগের অসৎ উদ্দেশ্যে এবং অন্যায়ভাবে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।

দ্বৈত-ব্যবহারের পণ্য রপ্তানির রাজনীতিকরণ এড়ানো এবং চীনা কোম্পানিগুলোর বৈধ অর্থনৈতিক সহযোগিতা রক্ষার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে চীনের অবস্থান আসলে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের চাপ ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করার বেইজিংয়ের সামগ্রিক নীতির অংশ।

একইসাথে, বেইজিং বিশ্বাস করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক নাগরিকদের অপূরণীয় দুর্ভোগ ও ক্ষতি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন করে ইয়েমেনে ব্যাপক মানবিক ক্ষতি করা ইত্যাদি।

জাতিসংঘের অসংখ্য প্রতিবেদনে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এবং দেশটিতে অভূতপূর্ব মানবিক সংকটের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বারবার বলেছে, ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক নীতিমালার বিরোধী। বিশেষ করে আনসার আল্লাহর অবস্থানে আক্রমণ, ইয়েমেনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতিসংঘ সনদের নীতির লঙ্ঘন। বেইজিং জোর দিয়ে বলেছে যে যে-কোনো সামরিক পদক্ষেপ অবশ্যই নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে। একতরফাভাবে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সঠিক নয়। এটা ঠিক যখন ওয়াশিংটন ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ ও হতাহতের কারণ হয়েছে। তাদের হামলা উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে বরং সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়েছে।

চীন নিজেকে একটি দায়িত্বশীল এবং শান্তিপ্রিয় শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে এমনকি যে-কোনো সংকটের রাজনৈতিক সমাধানকে সমর্থন করে। একইসাথে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং মানবিক সংকট আরও বাড়িয়ে তোলে বলে মনে করে।

বেইজিং বিশ্ব মঞ্চে একটি দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে তার ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করারও চেষ্টা করছে। এই অবস্থান বেইজিংকে পশ্চিম এশিয়ায় আরও প্রভাব বিস্তার করতে এবং বিশ্ব মঞ্চে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এই অবস্থানের মাধ্যমে বেইজিং একদিকে এ অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব কমাতে চাইছে এবং অপরদিকে নিজেকে একটি শান্তিপ্রিয় উদীয়মান আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।#

পার্সটুডে/এনএম/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।