শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর (র) মোকাবেলায় শত্রুদের ব্যর্থতার রহস্য
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160524-শহীদ_সর্বোচ্চ_নেতা_আয়াতুল্লাহ_খামেনেয়ীর_(র)_মোকাবেলায়_শত্রুদের_ব্যর্থতার_রহস্য
পার্সটুডে: যখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শক্তিগুলো মানুষকে ভোগ্যপণ্যে পরিণত করছে এবং বিশ্ব-সাম্রাজ্যবাদী দাম্ভিক শক্তিগুলো সর্বশক্তি দিয়ে জাতিগুলোকে অপমান করতে চাইছে, তখন আপনি যদি ন্যায়বিচার ও আধ্যাত্মিকতা, আইনের শাসন এবং জনগণের মর্যাদা নিয়ে কথা বলেন, তখন তাদের শঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
(last modified 2026-06-20T12:09:47+00:00 )
জুন ২০, ২০২৬ ১৬:৪৯ Asia/Dhaka
  • ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর
    ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর

পার্সটুডে: যখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শক্তিগুলো মানুষকে ভোগ্যপণ্যে পরিণত করছে এবং বিশ্ব-সাম্রাজ্যবাদী দাম্ভিক শক্তিগুলো সর্বশক্তি দিয়ে জাতিগুলোকে অপমান করতে চাইছে, তখন আপনি যদি ন্যায়বিচার ও আধ্যাত্মিকতা, আইনের শাসন এবং জনগণের মর্যাদা নিয়ে কথা বলেন, তখন তাদের শঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।

মুসলিম বিশ্বের প্রাণপ্রিয় সংগ্রামী নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা শহীদ খামেনেয়ীর (র) আদর্শ বা বিপ্লবী চিন্তার স্বরূপ: 

আপানি যখন অসংখ্য মুশরিকের ভিড়ে কাঁধে কুঠার তুলে নিবেন এবং ভেঙে চুরমার করবেন মানুষের বানানো মূর্তিগুলো তখনই প্রকাশ হবে খোদায়ি রীতি বা ঐশি বিধানগুলো। সত্যের পক্ষে প্রতিটি আন্দোলনই মুখোমুখি হয় শত্রুতার প্রবল ঢেউয়ের। স্বাভাবিকভাবেই তারা সংগ্রহ করে দাহক বা জ্বালানি, সত্যের পক্ষকে ধ্বংস করতে জ্বালায় আগুন। এটাই ইতিহাসের চিরন্তন নিয়ম—সত্য ও অসত্যের সংঘাত অবিরাম।

আপানি যখন সেই ফেরাউনের সামনে দাঁড়াবেন, যে নিজেকে “সর্বোচ্চ প্রভু” বলে দাবি করে, এবং আপানি যখন “সমস্ত জগতের প্রতিপালক”-এর কথা বলবেন, তখন এটা স্পষ্ট যে জাদুকররা আপনাকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করবে এবং ফেরাউনের অনুসারীরা আপনার ধ্বংসের অপেক্ষায় থাকবে।

জাহেলিয়াতের যুগে যখন আপনার আবির্ভাব ঘটবে, আপানি জীবন্ত কবর থেকে উদ্ধার পাওয়া কন্যাশিশুদের মর্যাদা দেবেন, মানুষের হৃদয়গুলোকে একে অপরের কাছাকাছি আনবেন এবং আপনি প্রথম আহ্বানেই আল্লাহর দয়ার কথা বলবেন। আপনি মানুষকে পড়তে ও চিন্তা করতে আহ্বান জানাবেন। তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা আপনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করবে এবং রাতের অন্ধকারে আপনার ঘরে হামলা চালাবে, যাতে আপনার জীবন কেড়ে নিয়ে বৈধতা দিতে পারে নিজেদের জাহেলিয়াত বা মুর্খতার অন্ধকারকে। (আধুনিক জাহিলিয়াতের যুগও এই ধারার ব্যতিক্রম নয়)

অন্ধকার আলোকে সহ্য করতে পারে না; তাই সে আলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আর তখনই আপনাকে দেয়া হয় সত্যের পক্ষে প্রতিরোধের দায়িত্ব যাতে সত্য হয়ে ওঠে আরও স্পষ্ট ।

আজ যখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শক্তিগুলো মানুষকে ভোগ্যপণ্যে পরিণত করছে এবং বিশ্ব-সাম্রাজ্যবাদী দাম্ভিক শক্তিগুলো সর্বশক্তি দিয়ে জাতিগুলোকে অপমান করতে চাইছে, তখন আপনি যদি ন্যায়বিচার ও আধ্যাত্মিকতা, সত্য ও আইনের শাসন এবং অধিকার-হারা মানুষের আধিকার আর বঞ্চিত ও মজলুম জনগণের মর্যাদা নিয়ে কথা বলবেন, তখন তাদের শঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। স্বাভাবিকভাবেই তারা হবে আতঙ্কিত এবং আপনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার অপেক্ষায় থাকবে।

যখনই ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং ঐশী মূল্যবোধের শাসনের কথা বলা হয়, তখন আধিপত্যবাদী ও বস্তুবাদী ব্যবস্থাগুলো প্রতিক্রিয়া দেখায়। কারণ প্রকৃত ন্যায়বিচার ক্ষমতার ভঙ্গুর ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। যে বিশ্ব সবকিছুকে লাভ ও সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে, সে আধ্যাত্মিকতা ও জাতির জাগরণকে ভয় পায়।

কিন্তু আল্লাহর চূড়ান্ত বিধান হলো—সত্যের পক্ষ, শুরুতে সংখ্যালঘু এবং চাপের মুখে থাকলেও, পরীক্ষা ও অবিচলতার পথে সত্য ধীরে ধীরে আরও সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কারণ “সত্য” মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি ও আল্লাহর ইচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর মিথ্যা, যতই উচ্চকণ্ঠ হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত তার বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসে।

আপনি যখন জীবনকে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে ব্যস্ত, নিজের দেশকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছেন, সর্বোচ্চ ক্ষমতার শিখরে পৌঁছাতে চান এবং একটি নতুন ইসলামী সভ্যতা গড়ে তুলতে চান তখন স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমা সভ্যতা হয় আতঙ্কিত। কারণ তারা নিজেদের তৈরি করা দুর্বল ও মাকড়সার জালের মতো ভিত্তির ওপর কোনো আস্থা রাখে না।

তখন আধিপত্যবাদীরা আপনার ওপর হামলা চালায় এবং অহংকারভরে বলে: “আমরা তেহরান দখল করব এবং ইসলামী রিপাবলিকের পতন ঘটাব।”

আপনার শত্রুরা অজ্ঞ। তারা ইসলামী রিপাবলিককে কেবল সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে মনে করে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে থাকা আত্মত্যাগের চেতনাকে দেখতে পায় না। আপনার শত্রুরা অজ্ঞ। মুজাহিদদের মুখে লুকিয়ে থাকা ঈমানকে তারা দেখতে পায় না এবং শুনতে পায় না কোটি কোটি স্বাধীন মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত সত্যের পক্ষেন আহ্বান।

আপনার শত্রুকুল কেবল নিজ সামরিক সাজ-সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে এবং তার হিসাব-নিকাশে ঐশী বিধানের কোনো স্থান নেই। অথচ সে জানে, আপনার পতাকা নবীদের পতাকা এবংআপনি দৃঢ়-সংকল্প ও ইস্পাত-কঠিন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী।

যেমন বলা হয়েছে:

“কেউ কেউ আমাদের বলে, তোমরা অমুক কথা, অমুক পদক্ষেপ ও অমুক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শত্রু তৈরি করেছ। না, আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকা উড়িয়েই শত্রু তৈরি করেছি। আমরা আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার কথা বলেই শত্রু তৈরি করেছি।”

মহান সেই নেতার ভাষায়:

“যদি নবীরা সব জালিম বা অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভুল করে থাকেন, তবে আমরাও সেই একই ভুল করছি।”

ইতিহাস হলো সত্য ও অসত্যের চিরন্তন সংগ্রামের মঞ্চ। আর আপনি দাঁড়িয়ে আছেন পৃথিবীর সব দুষ্টশক্তির বিরুদ্ধে। আপনি সংগ্রাম করছেন ইতিহাস-জুড়ে ছড়িয়ে-থাকা সব অবিশ্বাসের বিরুদ্ধে। কাবিলের হিংসা, নমরুদের অগ্নিসংযোগ, কারুনের সম্পদলোলুপতা, ফেরাউনের অহংকার, জালুতের ক্ষমতালিপ্সা, মুয়াবিয়ার প্রতারণা এবং ইয়াজিদের রক্তপিপাসার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে “আল্লাহু আকবার” শ্লোগান  উচ্চারণ করছেন আপনি।

আপনার আহ্বান ইবরাহিম খলিলের কণ্ঠ থেকে উৎসারিত। আপনি মুহাম্মদী আদর্শের অনুসারী, নবুওয়তের ভাণ্ডার থেকে জন্ম নেওয়া এক উত্তরাধিকার।

তাই বিভিন্ন শক্তি আপনার বিরুদ্ধে জোট বাঁধুক, বিভিন্ন দেশ আপনার শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করুক—তাতে কী আসে যায়? কুরাইশ, ইহুদি ও সাকিফ গোত্র কি মদিনাকে অবরোধ করেনি? আপনি কেন ভয় পাবেন, যখন আপনি আল্লাহর সত্য প্রতিশ্রুতি শুনছেন এবং আপনি জানেন যে ধৈর্য ও অবিচলতার মাধ্যমেই অর্জিত হয় বিজয়?

আহযাবের যুদ্ধে মক্কার কাফির ও মুশরিকরা চারপাশের সব গোত্র থেকে বেছে নিয়েছিল তাদের সেরা যোদ্ধাদের। তারা ১০ হাজার সেনার বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তারা ভাবছিল, মদিনায় গিয়ে সবাইকে হত্যা করবে এবং চিরতরে সবকিছুর অবসান ঘটাবে।

কিন্তু কী হয়েছিল?

যারা হতাশা ও নিরাশায় আক্রান্ত হয়েছিল তারা ভেঙে পড়েছিল। আর যারা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখেছিল তারা বলেছিল:

“এটাই সেই প্রতিশ্রুতি, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের দিয়েছিলেন।”

তারাই বিজয়ী হয়েছিল এবং আল্লাহ তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি করেছিলেন।

সুতরাং আজ, যখন আমরা আহযাবের যুদ্ধের মতো এক পরিস্থিতিতে লড়ছি এবং বিশ্বব্যাপী দাম্ভিক শক্তিগুলো আমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করুন। কারণ তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং তাঁর সুসংবাদ বিজয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

সেদিন নবুওয়তের কাহিনি শেষ হয়ে যায়নি, আর আজও আমাদের গণশাসনতন্ত্র ও ইসলামিয়াতের কাহিনি শেষ হয়নি। সেদিন মদিনা বিজয়ী হয়েছিল, আজ তেহরান বিজয়ী হবে।

এটাই ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়। #

(প্রবন্ধটি সংকলিত “দর আগোশে নীল”  বা 'নীলের বুকে' শীর্ষক গ্রন্থের আলোকে) 
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।