মমতা ও অভিষেক ‘অপসারিত’, তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়!
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে যা একসময় ছিল অকল্পনীয়, তা-ই এবার বাস্তবে ঘটল। প্রায় তিন দশক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে গড়া দল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হাওড়া মধ্য আসনের বিধায়ক অরূপ রায়। একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
আজ (সোমবার) কলকাতার নিউটাউনের একটি হোটেলে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলর। এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে রয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠক শেষে ঋতব্রতেরা দাবি করেছেন, তাঁরাই এখন ‘আসল তৃণমূল’। নতুন এই কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম, রথীন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিনকে সহসভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহাকে। আর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন আখরুজ্জামান আনসারি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিধানসভা নির্বাচনে বড় হারের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে ক্ষোভ জমছিল। সেই ক্ষোভই এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহে রূপ নিল। আজকের বৈঠকের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি ছিল না। সেখানে ছিল মহাত্মা গান্ধী, বিআর আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের ছবি। এমনকি মমতার অনুগত হিসেবে পরিচিত চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভ বসুও এই বিদ্রোহী বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।
বিদ্রোহের কারণ কী?
বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়া বাধ্যতামূলক। ২০২২ সালের পর আর কোনো বৈঠক হয়নি। এই সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণেই তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করেছেন।
তবে দলীয় সূত্রের খবর, এই সংকটের শুরু মূলত একটি ‘সই জাল’ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিধানসভায় দলের নেতা নির্বাচন নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তাতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন প্রথম এই অভিযোগ তোলেন। এরপর থেকেই মমতার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে থাকে। পরে লোকসভার ২০ জন সংসদ সদস্য তৃণমূল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া’য় যোগ দেন এবং সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের মতো শীর্ষ নেতারা রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
পাল্টা বক্তব্য
তবে এই বৈঠককে কোনো পাত্তাই দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কালীঘাটে মমতার বাড়ি থেকে বৈঠক শেষে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তৃণমূল আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমার্থক। আমাদের দলের যে গঠনতন্ত্র, তাতে এই ধরনের বৈঠক করার কোনো এক্তিয়ার ওদের (বিদ্রোহীদের) নেই।’
মমতার হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া এবং নতুন কমিটির এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের ওলটপালট এনে দিয়েছে। দলটির ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর সবার।#
পার্সটুডে/এমএআর/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।