'বিষয়গুলো আমাদের যেভাবে বলা হচ্ছে, বাস্তবে সেভাবে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না'
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের সিনেটরের সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা
-
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের সিনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা
পার্সটুডে: ইরান যুদ্ধ নিয়ে সরকারের অবস্থান এবং ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার সমালোচনা করায় রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচির ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল (বুধবার) ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দলের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হন। এই ঘটনা ঘটে তার প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কয়েক হাজার হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত বাজেট চাওয়ার ঠিক আগে।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডির (Bill Cassidy) উত্তপ্ত মৌখিক বিতর্ক হয়, যেখানে উভয় পক্ষই উচ্চস্বরে কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাসিডি অভিযোগ করেছেন যে:
“ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি (ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষর করেছেন, যার অধীনে ইরানকে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। কারণ এই চুক্তি যুদ্ধের শুরুতে ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পূরণ করছে না।”
ক্যাসিডি সাংবাদিকদের বলেন:
“আমেরিকান জনগণকে বর্তমানে যা জানানো হচ্ছে তার চেয়ে বেশি তথ্য জানানো উচিত। বিষয়গুলো আমাদের যেভাবে বলা হচ্ছে, বাস্তবে সেভাবে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।”
সিনেটে ভোটাভুটি
এই বিতর্কের পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতের শেষ দিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সিনেট এমন একটি প্রস্তাব ঠেকাতে ভোট দেয়, যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান দাবি করেছিল। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ সম্ভবত ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়।
সিনেটে ৫০-৪৭ ভোটে একটি যুদ্ধক্ষমতা সীমিতকরণ প্রস্তাব (War Powers Resolution) আটকে দেওয়া হয়, যা ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করতে পারত।
হোয়াইট হাউজের জরুরি ব্রিফিং
বিল ক্যাসিডি ও ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউজ ক্যাসিডির জন্য জরুরি ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। এতে অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের ইরান বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
ক্যাসিডি এর আগে ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন। তবে ওই ব্রিফিংয়ের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এমন একটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন, যা ট্রাম্পের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করতে পারত।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
বুধবার রাতের ভোটাভুটির পর ট্রাম্প ফলাফলকে স্বাগত জানান এবং সামাজিক মাধ্যমে লেখেন:
“এই ভোট ইরানের জন্য একটি সতর্কবার্তা।”
তবে রয়টার্সের মতে, ট্রাম্প ও তার নিজ দলের এক সিনেটরের মধ্যকার এই প্রকাশ্য বিরোধ দেখিয়ে দেয় যে, আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ তার জন্য কতটা রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই নির্বাচনই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নির্ধারণ করবে।
জনমত জরিপে নেতিবাচক চিত্র
রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে প্রতি চারজন আমেরিকানের মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন যে ইরান যুদ্ধের জন্য যে ব্যয় হয়েছে, তা সার্থক ছিল।
পূর্ববর্তী ভোটের প্রেক্ষাপট
এই বাগ্বিতণ্ডা ঘটে এমন এক দিনের পর, যেদিন সিনেট আরেকটি পৃথক প্রস্তাব নিয়ে ভোট দেয়। ওই প্রস্তাবটি এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছিল এবং তাতে ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধ ও মার্কিন সেনা মোতায়েন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
ক্যাসিডি ছিলেন চারজন রিপাবলিকান সিনেটরের একজন, যারা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে ওই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিলেন।
ট্রাম্প তার পরবর্তী বক্তব্যে ক্যাসিডির সঙ্গে হওয়া বিতর্কের কথা উল্লেখ না করলেও পরে সিনেটের সমালোচনা করেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন:
“ইরান এটা দেখছে এবং বলছে, ‘এটা আবার কী?’ আপনারা জানেন, এর কোনো অর্থই হয় না, তাই না?”
যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত বাজেট চাওয়া
এর কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত সাত হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ চায়। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ৮৬৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের সঙ্গে যুক্ত হবে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।