দিল্লিতে নজিরবিহীন ছাত্র বিক্ষোভ: ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দোরগোড়ায় জনস্রোত
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161532-দিল্লিতে_নজিরবিহীন_ছাত্র_বিক্ষোভ_ব্যারিকেড_ভেঙে_সংসদের_দোরগোড়ায়_জনস্রোত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি গত কয়েক দশকের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন অন্যতম বৃহত্তম ও নজিরবিহীন বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ গতকাল (সোমবার) সংসদের দিকে পদযাত্রা করেন।
(last modified 2026-07-21T07:00:54+00:00 )
জুলাই ২১, ২০২৬ ১২:৫৫ Asia/Dhaka
  • বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি
    বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি গত কয়েক দশকের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন অন্যতম বৃহত্তম ও নজিরবিহীন বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ গতকাল (সোমবার) সংসদের দিকে পদযাত্রা করেন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও জনতার বিশাল স্রোত কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে, যার ফলে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।

অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই সংসদ ভবন ঘেরাও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সম্প্রতি অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে ২০ দিন ধরে চলা অনশন থেকে ১৮ জুলাই ভোরে পুলিশ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেলে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা এই বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করে। রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশসহ দিল্লির বাইর থেকেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে যোগ দেন। এছাড়া আজাদ সমাজ পার্টি, আম আদমি পার্টি ও সমাজবাদী পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনে যন্তর মন্তর ও রাইসিনা মার্গ এলাকায় নজিরবিহীন জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ

গতকাল সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের মাত্র ১০০ মিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছে যান। প্রায় তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখেও পুলিশ প্রাথমিক অবস্থায় এই নেতৃত্বহীন বিপুল জনস্রোতকে থামাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সংসদ ভবনের কাছে আড়াআড়ি বাস রেখে তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হয় এবং একপর্যায়ে তা সহিংস রূপ নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে।

বিক্ষোভের তীব্রতা দেখে মোদী সরকার নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। রোববার রাতে ও সোমবার সকালে সরকারের প্রাথমিক আলোচনার প্রস্তাব আন্দোলনকারীরা প্রত্যাখ্যান করার পর, কেন্দ্রীয় সরকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকের দায়িত্ব দেয়। বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে শিক্ষার্থীরা একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৈঠকটিকে 'সৌহার্দ্যপূর্ণ' উল্লেখ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

একই সময়ে সংসদ ভবনের ভেতরেও এনডিএ সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। #

পার্সটুডে/এমএআর/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।