ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নৌপথ লঙ্ঘন করায় এই দুর্ভোগ
হরমুজে নৌ-মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত তেল-ট্যাংকার, অবৈধ রুটে চলায় আটক ৬ জাহাজ
-
ফাইল ছবি: হরমুজ প্রণালিতে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকার
পার্সটুডে: ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নৌপথ থেকে সরে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার নৌ-মাইনে আঘাত লেগে বিস্ফোরিত হয়েছে। একই সময়ে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে অবৈধভাবে চলাচলের চেষ্টা করার অভিযোগে ছয়টি জাহাজকে আটক করেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম দেফা প্রেস এক প্রতিবেদনে রোববার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর জন্য ইরান যে নির্দিষ্ট নৌপথ নির্ধারণ করেছিল, সেখান থেকে সরে যাওয়ার পর ওই ট্যাংকারটি একটি নৌ-মাইনে আঘাত করে।
ওই সংবাদসূত্র জানিয়েছে, "নিয়ম লঙ্ঘনকারী ট্যাংকার"টিসহ নির্ধারিত করিডোর থেকে বিচ্যুত হওয়া জাহাজগুলোর সম্ভাব্য পরিণতির দায়ভার ওই জাহাজগুলোকেই বহন করতে হবে বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ আগেই সতর্ক করেছিল।
তবে প্রতিবেদনে জাহাজটির পরিচয়, মালিকানা, গন্তব্য কিংবা এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না—সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে "অনুমতি ছাড়া এবং ইরান-নিয়ন্ত্রিত নির্ধারিত নৌপথের বাইরে" চলাচলের চেষ্টা করার অভিযোগে ছয়টি জাহাজকে আটক করেছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার-মাধ্যমটির তথ্যমতে, জাহাজগুলোকে আটক করার আগে আইআরজিসির নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে এবং পরে তাদের গতিপথ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধা দেয়।
এর আগেও শনিবার আইআরজিসি ঘোষণা দিয়েছিল যে, কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে অনুমতি ছাড়া অতিক্রমের চেষ্টা করায় চারটি জাহাজকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বিকল্প নৌপথ চালু করে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দেশটির কর্মকর্তারা অভিযোগ করে এসেছেন।
এসব ঘটনা ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচল ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক পথ।
গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করে, যার উদ্দেশ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের অবসান ঘটানো।
সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ফি ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়।
এই সমঝোতার প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা করতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রণালি অতিক্রমের জন্য একটি বিশেষ নৌপথ নির্ধারণ করে এবং একই সঙ্গে জাহাজগুলোকে অবৈধ নৌপথ ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা দেয়।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে একটি অবৈধ বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলে সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করে আসছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ওয়াশিংটন আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলে হস্তক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরান ওই করিডোর বন্ধ করে দেয়। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।