কুয়েত ও আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162756-কুয়েত_ও_আমিরাতে_মার্কিন_ঘাঁটিতে_ইরানের_বিধ্বংসী_ক্ষেপণাস্ত্র_ও_ড্রোন_হামলা
পার্সটুডে: ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা সাম্প্রতিক মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
(last modified 2026-09-03T14:08:52+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬ ১৯:৫৪ Asia/Dhaka
  • ইরানের অরাশ নামক ড্রোন (ফাইল ছবি)
    ইরানের অরাশ নামক ড্রোন (ফাইল ছবি)

পার্সটুডে: ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা সাম্প্রতিক মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এসব হামলায় স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, সেনা মোতায়েনের অবস্থান এবং রাডার ব্যবস্থা টার্গেট  করা হয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনী জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের সায়েকেহ (বজ্রপাত) অভিযান-এর ৩১তম ধাপে এসব হামলা চালানো হয়। ইরানি বেসামরিক নাগরিক ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শাহাদাতের প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিবিহীন আগ্রাসনের জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা জানায়।

বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলাকারী ড্রোন কুয়েতে মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে।

ইরানি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটির যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে সেনা মোতায়েনের এলাকা এবং রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনী আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিকে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘাঁটি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অভিযান এবং নজরদারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে, আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিকে বিদেশি বাহিনীর বিমান সহায়তা ও পরিবহন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন শহরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলার পর এই ঘোষণা আসে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাগুলোতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও ১৪২ জন আহত হয়েছেন।

ওই হামলাগুলোর মধ্যে হরমুজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল—এমন একটি আবাসিক বাড়িতে মার্কিন হামলার ঘটনাও রয়েছে।

ওই হামলায় চার বছর বয়সী একটি শিশুসহ পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৭০ জনের বেশি আহত হন।

ইরানি সেনাবাহিনী বলেছে, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিক্রিয়া কঠোর থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সাহসী সদস্যদের প্রতিক্রিয়া কঠোর ও ধ্বংসাত্মক ছিল এবং থাকবে। চূড়ান্ত বিজয় ও আগ্রাসনকারীর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে, আরব সূত্রগুলোও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি মার্কিন ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও বিমান হামলার আশঙ্কায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। #
 

পার্সটুডে/এমএআর/০৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।