ইসরায়েল হায়োমের তথ্য প্রকাশ
মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৭ মার্কিন সেনা আহত: ইসরায়েলি পত্রিকা
-
মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে ইরানি হামলায় অন্তত ৩৭ মার্কিন সেনা আহত: ইসরায়েলি পত্রিকা
পার্সটুডে: ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘ইসরায়েল হায়োম’ ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে, গত ৫ সেপ্টেম্বর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছিল।
বেশিরভাগ বিশ্লেষকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য পূর্ণাঙ্গ পরাজয়ে পরিণত হয়েছে এবং যুদ্ধ আজই শেষ হয়ে গেলেও এর পরিণতি আগামী বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে। লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হওয়া, এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের অবসান, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে ব্যাপক বৃদ্ধি, যুদ্ধে মার্কিন সামরিক কৌশলগত অস্ত্র মজুতের তীব্র হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালি খুলতে ব্যর্থতা—এসব হচ্ছে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মুখীন হওয়া পরাজয়গুলোর কয়েকটি মাত্র।
অনেকেই মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন নেটওয়ার্ক ‘এমএসএনও’ (MS NOW) ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তাগত পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে এই সংঘাতকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি “কৌশলগত বিপর্যয়” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা লিখেছে, যুদ্ধের বিপুল ব্যয় অব্যাহত থাকলে তা কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত ক্ষমতাসীন দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রিপাবলিকানদের অবস্থা আরও সংকটপূর্ণ এবং এই পরিস্থিতির একটি বড় অংশের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে দায়ী করা হচ্ছে।
‘এমএসএনও’ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনের গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতিগুলো তুলে ধরে লিখেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পেট্রোলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং চলতি মাসেও এতে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন ঘটেছে।
জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জেট জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বিমান টিকিটের দাম ২০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি বন্ধকী ঋণের সুদের হারও ১.২৫ শতাংশ বেড়েছে, কারণ ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে অর্থনীতিবিদ ও মুডি’স অ্যানালিটিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি এই যুদ্ধের মোট ব্যয় ২২০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছেন। এই অর্থের পরিমাণ গড় মার্কিন পরিবারের জন্য প্রায় ১,৬৫০ ডলারের সমান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য পেন্টাগনের ব্যয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে এবং এই ব্যয় এখনো বাড়ছে।
এ ছাড়া, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে এবং নিজেদের গোলাবারুদের মজুত ব্যাপকভাবে কমিয়ে ফেলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, এর ফলে দেশটির অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ মার্কিন সামরিক বাহিনী থাড (THAAD) প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের প্রায় সব দূরপাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র এবং নির্ভুল হামলা পরিচালনাকারী ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। দেশটির গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যেই দূরপ্রাচ্য ও ইউরোপে উল্লেখযোগ্যভাবে পড়েছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ /২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।