বিক্ষিপ্ত গোলযোগ ও সহিংসতায় শেষ হলো
পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভা নির্বাচন: ‘তালিবানি শাসন’ কায়েমের চেষ্টা হচ্ছে বলে বিজেপির অভিযোগ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত গোলযোগ ও সহিংসতার মধ্যে ১০৮টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (রোববার) পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর পাওয়া যায়। বিজেপি ও অন্যদের অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতাসীন তৃণমূল সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে এবং ভোট লুঠ করেছে।
বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার আজ বলেন, ‘বাংলায় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে, স্বাধীন ভারতে মানুষের গণতন্ত্রকে হনন করেছে তৃণমূল সরকার। বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে বলেন, ‘আগামীদিনে উনি কীভাবে দেখতে চাচ্ছেন আমার জানা নেই। উনি যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে তালিবানি শাসন, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর শাসন কায়েম করার চেষ্টা করছেন, বাংলার মানুষকে একটি কথা বলব, আপনারা সজাগ হোন, না হলে আগামীদিনে আপনার ঘরে পৌঁছে যাবে এই সন্ত্রাস। আর তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীরা যেভাবে সকাল ৭ টার থেকে ভোট লুঠ করছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানাবো। যে ওয়ার্ডগুলোতে রিগিং হয়েছে, সেগুলোতে পুনঃনির্বাচন করতে হবে।’

বনগাঁ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রিগিং, ছাপ্পা ভোট, বুথ দখলের অভিযোগে বিজেপি প্রার্থীসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা সীমান্ত শহর বনগাঁর যশোহর রোড অবরোধ করেন। তৃণমূল অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, রাজ্যে পৌরনির্বাচনে গোলযোগ প্রসঙ্গে রাজ্য তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘মোট বুথের মধ্যে মাত্র ১.২ শতাংশ ‘নাটক বা অভিযোগ’ প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপি পরাজয় নিশ্চিত জেনে নানাভাবে প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তৃণমূল কর্মীরা যতটা সম্ভব প্ররোচনায় পা না দিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করেছে।’
আজ মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কায় বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। ধূলিয়ান পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় বোমার আঘাতে আহত হন এক পুলিশকর্মী। গোলযোগ থামাতে কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। উত্তর ২৪ পরগণার কামারহাটিতে চার চাকার গাড়ি ও মোটর সাইকেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের অভিযোগ, পুলিসের নিরপেক্ষতা ও ভদ্রতার সুযোগ নিয়ে এলাকার বিজেপি ও সিপিএমের দুর্বৃত্তরা হামলা করছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপির গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে বুথে বুথে গেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। উনি ভোটে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। অধীর বাবু অবশ্য বলেছেন, রাস্তা আটকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ভোট লুঠের চেষ্টা করছে তৃণমূল।
খড়্গপুরে ভোট চলাকালীন বুথে ঢুকে ইভিএম ভাঙচুরের পাশাপাশি বোমাবাজি করার অভিযোগ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।