বিজেপি’র কটাক্ষ
পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা মমতার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র ও বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন তৃণমূল সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ (রোববার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য বাবুল সুপ্রিয় এবং আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে শত্রুঘ্ন সিনহার নাম ঘোষণা করেন। বাবুল সুপ্রিয় এবং শত্রুঘ্ন সিনহা একসময়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
শত্রুঘ্ন সিনহাকে প্রার্থী করা প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী ও কোলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আজ বলেন, ‘শত্রুঘ্ন সিনহা নন পলিটিক্যাল না। তিনি চলচিত্র অভিনেতা নিশ্চয়। কিন্তু একটা বড় অভিজ্ঞতা তার আছে। সংসদে আগেও গেছেন উনি। উনার মত প্রার্থী পেয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে উৎসাহী। এরকম ব্যক্তিত্ব থাকলে সংসদে আমাদের লড়াইয়ে সুবিধা হবে।’
এর আগে বাবুল সুপ্রিয় আসানসোল কেন্দ্রের বিজেপি এমপি ছিলেন। কিন্তু তিনি বিজেপি ছাড়ার পাশাপাশি এমপি পদ থেকেও ইস্তফা দেন। সেই কারণে আসানসোল আসনটি শূন্য হয়। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ওই আসনে এবার উপনির্বাচন হচ্ছে। সেখানে অবশ্য বাবুল সুপ্রিয়কে প্রার্থী না করে প্রার্থী করা হয়েছে সাবেক অভিনেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শত্রুঘ্ন সিনহাকে।
অন্যদিকে, রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হওয়ায় বালিগঞ্জ বিধানসভা আসনটি শূন্য হয়েছে। এবার ওই আসনে বাবুল সুপ্রিয়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। গত বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু তিনি রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন।
বালিগঞ্জে বাবুল সুপ্রিয়র প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘কার চুল এলোমেলো, কার কী এলো গেল!’
অন্যদিকে, অভিনেতা ও রাজনীতিককে অন্য রাজ্য থেকে এনে প্রার্থী করা প্রসঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণের বিষয়টি উসকে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি’র পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘অনুমান করা হয়েছিল যে তৃণমূল আসানসোল কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ, দলের যুব শাখার সভাপতি সায়নী ঘোষকে প্রার্থী করবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার ভাইপোকে (অভিষেক) ছোট করার জন্য ওই আসনে একজন ‘সম্পূর্ণ বহিরাগত’কে প্রার্থী করেছেন। যিনি কেবল আসানসোলই নয়, বাংলার জন্য বহিরাগত।’
গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি’র ভিন রাজ্যের নেতারা প্রচারে এলেই তাদের ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শত্রুঘ্ন সিনহা যে পশ্চিমবঙ্গের বাইরের বাসিন্দা, সে কথাই কৌশলে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপি’র পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন