কোলকাতার ব্রিগেড ময়দান থেকে বিজেপি সরকারকে উৎখাতের ডাক
-
মমতা বন্দোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড ময়দান থেকে বিরোধী নেতারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিয়েছেন। আজ (শনিবার) কোলকাতার ব্রিগেড ময়দান থেকে বিরোধী নেতারা আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারকে ছুঁড়ে ফেলার জন্য সমস্ত বিরোধীদলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশের আয়োজক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে বলেন, ‘মোদিবাবুর এক্সপায়ারি ডেট এসে গেছে। এখান থেকেই বিজেপির শেষের শুরু হয়ে গেছে। আগামীদিন ভারতে যখন পরিবর্তন হয়ে নয়া সরকার ক্ষমতায় আসবে তখন আমরা আবারও এই ব্রিগেড ময়দানে সভা করব। এখন থেকেই আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আগামীদিনে মানুষের পরবর্তী যে লড়াই, তা হবে স্বাধীনতার দ্বিতীয় যুদ্ধ। আমরা অনেক নেতা ও সরকার দেখেছি কিন্তু হিটলারের মতো ভারতে এরকম কাউকে দেখিনি, মুসোলিনি দেখিনি। এভাবে ফ্যাসিট কায়দায় দেশ শাসন করতে কাউকে দেখিনি!’

মমতা বলেন, ‘দেশে মানুষের কোনো স্বাধীনতা নেই, এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়, ‘সুপার এমারজেন্সি’ চলছে!’ তিনি সভা মঞ্চ থেকে ‘বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান দিলে উপস্থিত মানুষজন তাঁর সঙ্গে গলা মেলান।
ওই সমাবেশে দেয়া ভাষণে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাবেক বিজেপি নেতা অরুণ শৌরি বলেন, ‘এই সরকারকে উৎখাত করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।’
আম আদমি পার্টির প্রধান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর ভাষণে বলেন, ৭০ বছরে পাকিস্তান যে ক্ষতি করতে পারেনি, নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি তাই করে দেখিয়েছেন।

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘মানুষ আর মোদি সরকারকে চাচ্ছে না। বিজেপি বারবার ভোট বিভাজনের সুবিধা পাচ্ছে। ভোট ভাগাভাগি রুখতে পারলেই ওদের পরাজিত করা সহজ।’
রাষ্ট্রীয় লোক দলের নেতা জয়ন্ত সিং প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘৫৬ ইঞ্চির ছাতি (বুকের ছাতি) হলে মনটাও বড় হওয়া উচিত। নোট বাতিল করে যে ভুল করেছেন, তার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।’

ব্রিগেডের ওই মহাসমাবেশে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডা. ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ, উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, অরুণাচল প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাবেক বিজেপি নেতা অরুণ শৌরি, যশবন্ত সিনহা, বিজেপির বিদ্রোহী নেতা ও এমপি শত্রুঘ্ন সিনহা, গুজরাটের পাটিদার আন্দোলনের নেতা হার্দিক প্যাটেল, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা অভিষেক সিংভি, ঝাড়খণ্ডের নেতা হেমন্ত সোরেন, অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, বিএসপি নেতা সতীশ মিশ্র, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমার স্বামীসহ বহু বিরোধী নেতা উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৯
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন