বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে মানুষ শান্তিতে থাকবে না, ওদেরকে কবর দিন: মমতা
-
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে কোনও মানুষ শান্তিতে থাকবে না বলে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে ওদেরকে ভালো করে গণতান্ত্রিক উপায়ে কবর দেওয়ার আহ্বান জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা হাইস্কুল ময়দানে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা ঠাকুরের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ওই আহ্বান জানান।
মমতা বলেন, ‘বিজেপি থাকলে মানুষ আর শান্তিতে থাকবে না। আমরাও পুজোআচ্চা করি কখনও দেখেছেন গদা নিয়ে বেরোতে? কিন্তু ওরা গদা নিয়ে মিছিল করছে! কার মাথা ফাটাবে গদা দিয়ে? আমরা মিছিল করি প্ল্যাকার্ড নিয়ে, ওরা গদা নিয়ে মিছিল করছে! তলোয়ার নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে! হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ঈশায়ী সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। কারণ এই দেশটা আমাদের, এই রাজ্যটা আমাদের।’
মমতা বলেন, ‘ওরা ইতিহাস বদলে দিচ্ছে। সংবিধান বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, এবার মানুষ ওদেরকেই বাতিল করে দেবে।’
মমতা বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, ‘ওদের মগজ মরুভুমি, মাথা অনুর্বর, শুধু দাঙ্গা করে আর হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজন করে। মানুষের মধ্যে ভাগাভগি করে, মানুষের ওপর অত্যাচার করে। ক্ষমতায় আসার আগে মোদি বাবু বলেছিলেন ‘আচ্ছে দিন’ (সুদিন) আসবে। নির্বাচনে জেতার পরে উনি শুধু বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর নির্বাচনের আগে এখন মানুষের কাছে ভোট চাইতে এসেছেন। পেট্রোল–ডিজেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। ২ কোটি মানুষ বেকার হয়েছে, ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছে। দলিত-সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, এটাই কী ‘আচ্ছে দিন’?’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বনগাঁ কেন্দ্রের জন্য মমতা ঠাকুরের নাম ‘বড়মা’ বীণাপাণি দেবীই সুপারিশ করেছিলেন। মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। বিগত ত্রিশ বছর ধরে আমরা বড়মা’র খেয়াল রেখেছি, তাঁর চিকিৎসা করিয়েছিলাম। তখন এরা কোথায় ছিল? আজ বিজেপি এসে প্রীতি দেখাচ্ছে। কোনদিনও ওরা ঠাকুরবাড়িতে যায়নি, আমি বরাবর সেখানে যেতাম।’
মুখ্যমন্ত্রী এদিন মতুয়াদের জন্য যেসব উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে সেইসব উল্লেখ করে বলেন, গাইঘাটায় হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। কৃষ্ণনগরে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হচ্ছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য আমরা ‘মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ’, ‘নমশূদ্র উন্নয়ন পর্ষদ’ গঠন করেছি।’
মমতা এদিন বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সাধারণ মানুষ বিশেষকরে সেখানকার বাঙালিরা যে দুর্ভোগে পড়েছেন তা উল্লেখ করে বলেন, অসমে এনআরসি করে চল্লিশ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছে, যার মধ্যে বাইশ লক্ষ হিন্দু বাঙালি। বিজেপি বলেছে বাংলায় এনআরসি করবে। বাংলার মানুষের গায়ে হাত দিলে বাংলার মানুষই ওদের বিদায় দেবে।’
তিনি বলেন, ‘কালোধন বাইরে থেকে নিয়ে এসে পনের লক্ষ টাকা করে ফেরত দেয়ার কথা বলেছিল। কোথায় গেল মোদীবাবু? আপনার দলের টাকা কত বেড়েছে? কত সম্পত্তি বেড়েছে? এত টাকা এল কোথা থেকে? হিসেব হবে না? আগামীদিনে এসবের হিসেব হবে। নোট বাতিল করেছিলেন কার স্বার্থে? একশ’জন মানুষ সেই সময় মারা গিয়েছিল। চাষিরা চাষ করতে পারেনি। দোকানদাররা দোকান চালাতে পারেনি। কত মানুষ ব্যাঙ্কের টাকা তুলতে পারেনি। আগামীদিনে জেনে রাখবেন ব্যাঙ্কের এমন হাল করে রেখেছে ব্যাঙ্কে জমা রাখা টাকা ফেরত পাবেন কি না তাঁর কোনও ঠিক ঠিকানা নেই। দেশটার সর্বনাশ করে দিয়েছে! উনি যদি একদিনে নোট বাতিল করে দেয় যারা কাজ করছিল তাদের চাকরি বাতিল করে দেয়, বারো হাজার কৃষক আত্মহত্যা করে, সবাইকে যদি বাতিল করে দেয়, দেশের ইতিহাস বাতিল করে দেয়, বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান বাতিল করে দিচ্ছে তাহলে মোদী বাবুকে আপনারা বাতিল করবেন না কেন? পাঁচ বছর ধরে ওরা অনেক কষ্ট দিয়েছে দেশের মানুষকে। আর নয়, আগামীদিনে ৬ মে একটা করে ভোট দিয়ে মোদীকে বাতিল করে দিন। বিজেপিকে বাতিল, দাঙ্গা বাতিল, গুণ্ডা বাতিল করে দিন।’
মমতা বলেন, ‘চৌকিদার এবার বিদায় নেবে। আজ নির্বাচনের ফলে ৩৬৫/৩৭০ আসনে নির্বাচন শেষ হবে। আগেরবার উত্তর প্রদেশের জন্য জিতেছিল। উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে বেশি আসন। আশিটার মধ্যে ওরা ৭৩ টা পেয়েছিল। আর এবার যা শুনছি ১৩ টাও পাবে না। বিজেপি কোথা থেকে জিতবে? অন্ধ্র প্রদেশে ‘জিরো’, তেলেঙ্গানাতে জিরো, কর্ণাটকে কয়েকটা মাত্র, কেরালায় জিরো, বাংলায় জিরো, উড়িষ্যায় জিরো। উত্তর প্রদেশে যদি পায় তেরো, তার মানে তো একেবারে হারো। এসব জায়গায় হারবে সেজন্য বাংলায় উঁকিঝুঁকি মারছে। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজন করতে চাচ্ছে।’
আরএসএসের সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘আরএসএসের প্রচারকরা আগে হাফ প্যান্ট পরে দৌড়াত। লজ্জাও করে না! লজ্জা-ঘৃণা-ভয় তিন থাকতে নয়। আর এখন টাকার বাক্স আর শপিং মল নিয়ে দৌড়চ্ছে! কত টাকা! আমি রামকৃষ্ণ মিশনকে সম্মান করি, ভারত সেবাশ্রমকে সম্মান করি, অনুকূল ঠাকুরকে করি, আমি আরএসএসের লোকগুলোকে সম্মান করি না।’
মমতা এদিন বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা ঠাকুরকে জয়ী করার আহ্বান জানানোর পাশপাশি বিজেপি সম্পর্কে সবাইকে সাবধান করে দিয়ে বিজেপিকে দিল্লি থেকে বিদায় করে দেওয়ার আবেদন জানান।#