উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো পদক্ষেপ নেননি: মুকুল রায়
-
মুকুল রায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) পশ্চিমবঙ্গের ট্যাংরা হাইস্কুল ময়দানে দলীয় প্রার্থী শান্তনু ঠাকুরের সমর্থনে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
মুকুল বাবু আজ তাঁর ভাষণে বেশিরভাগ সময় ধরে উদ্বাস্তু সমস্যা, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রভৃতি ইস্যুতে কথা বলেন। মুকুল রায় বলেন, ‘যেদিন পূর্ব পাকিস্তান হয়েছিল সেদিন ওপার বাংলায় হিন্দুর সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ। আর আজ ওপার বাংলায় হিন্দুর সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে চার লাখে। স্বাধীনতার ৭২ বছর পরেও এখনও ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষ একটা রেশন কার্ডের জন্য পার্টি অফিসে দৌড়য়, একটা স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য নেতার পিছনে দৌড় দেয়, হাসপাতালে ভর্তি হতে নেতার কাছে যেতে হয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারতের কোনো রাজনৈতিক দলই একথা ভাবেনি। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিধিত্ব করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী ছিলেন। আমরা তাঁর সহযোগী ছিলাম। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবারের জন্যও সেই উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে একটা কথাও বলেননি।
এনআরসি প্রসঙ্গে মুকুল রায় বলেন, বিজেপির অবস্থান এ ব্যাপারে খুব স্পষ্ট। প্রথমে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন হবে, তারপরে নাগরিকপঞ্জিকা হবে। অর্থাৎ যারা ভারতে এসেছেন, তা সে গতকাল এসে থাকুন, গত পরশু এসে থাকুন, আজকে এসে থাকুন ভারতে যারা এসেছেন তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হবে। তিনি পাকিস্তান থেকে আসুন, বাংলাদেশ থেকে আসুন, আফগানিস্তান থেকে আসুন, যে মানুষগুলো এসেছেন তাঁরা নাগরিকত্ব পাবেন। ১৯৩৬ সালে জাতিসঙ্ঘে সংজ্ঞায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কে শরণার্থী আর কে অনুপ্রবেশকারী। সেজন্য যেসমস্ত মানুষগুলো এই রাজ্যে এসেছে আগে তাদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাদের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। তাঁরা আর দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক থাকবেন না।
পশ্চিমবঙ্গে ৪২ টি লোকসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল ২০ টার বেশি আসন পাবে না বলেও বিজেপি নেতা মুকুল রায় মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২