ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২২৩, নাখোদা মসজিদে বিধিনিষেধ জারি
ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২২৩ জনে পৌঁছেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনাভাইরাসের নতুন ৫০টি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে আজ (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ জনে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এরমধ্যে ৩২ বিদেশি নাগরিক রয়েছে। করোনায় এ পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, দেশে বর্তমানে ১৯৯টি কোভিড-১৯ এর ঘটনা রয়েছে। এছাড়াও এমন ২০ জন আছেন যারা সুস্থ হয়েছে বা তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এবং চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) বিকেল পর্যন্ত এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, অন্ধ্র প্রদেশে ৩, ছত্তিসগড়ে ১, রাজধানী দিল্লিতে একজন বিদেশিসহ ১৭ জন লোক আক্রান্ত হয়েছেন। গুজরাটে ৫, হরিয়ানায় ১৪ বিদেশিসহ ১৭, কর্ণাটকে ১৫, কেরালায় ২ বিদেশিসহ ২৮, মহারাষ্ট্রে ৩ বিদেশিসহ ৫২, উড়িষ্যায় ২, পদুচেরিতে ১, পাঞ্জাবে ২, রাজস্থানে ২ বিদেশিসহ ১৭, তামিলনাড়ুতে ৩, তেলেঙ্গানায় ৯ বিদেশিসহ ১৭, কেন্দ্রশাসিত চণ্ডীগড়ে ১, কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে ৪, কেন্দ্রশাসিত লাদাখে ১০, উত্তর প্রদেশে ১ বিদেশিসহ ২৩, উত্তরাখণ্ডে ৩ এবং পশ্চিমবঙ্গে ২ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ (শুক্রবার) জুমা নামাজ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী নাখোদা মসজিদ কমিটি একাধিক বিধিনিষেধ জারি করে। নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি নাসের ইব্রাহিম বলেছেন, ‘জুমা নমাজে নাখোদায় প্রায় তিরিশ হাজার মানুষ সমবেত হন। করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে সাধারণ মুসলিমদের কাছে একটাই আবেদন, আমাদের নির্দেশ মেনে চলুন।’
ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নামাজ পড়ার জন্য জায়নামাজ বা কাপড় হাতে রাখুন। মসজিদের ওজুখানা এড়িয়ে গিয়ে বাড়ি থেকেই ওজু করা শ্রেয়। নামাজের পরে মসজিদের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেউ করমর্দন করে থাকলে তাঁকে নিজের মুখ, নাক এবং চোখ স্পর্শ করার আগে ভালভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এছাড়া নামাজ পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারও করোনার উপসর্গ থাকলে তিনি যাতে মসজিদে না এসে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেন, সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নাখোদা মসজিদ কমিটির ওই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি আব্দুল গনি। তিনি বলেন, ‘সারা রাজ্যে ওয়াকফের নথিভুক্ত প্রায় ছ’হাজার মসজিদ রয়েছে। পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত তিরিশ হাজার মসজিদ রয়েছে। নাখোদা রাজ্যের সর্ববৃহৎ মসজিদ। রাজ্যের অন্য কোনও মসজিদে এতটা ভিড় হয় না। তবুও নাখোদা মসজিদের বিজ্ঞপ্তি যাতে রাজ্যের সমস্ত মসজিদে মেনে চলা হয়, সে বিষয়ে সমস্ত মসজিদ কমিটিকে জানিয়েছি।’ করোনা ইস্যুতে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি সবাইকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।