ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জুমার পরিবর্তে বাসায় জোহর নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা
করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জুমা নামাজের পরিবর্তে বাসায় জোহর নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা। লকডাউন পরিস্থিতিতে মসজিদে ভিড় এড়াতেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিভিন্ন মসজিদে জুমা নামাজের বড় জামাতের পরিবর্তে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ পরিচালন কমিটির কয়েকজন মিলে সংক্ষিপ্ত জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মুহাম্মাদ শফিক কাশেমি আগেই মুসুল্লিদের বাসায় নামাজ পড়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। একইভাবে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান, অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামাআতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতীন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী, দিল্লির ঐতিহাসিক জামা মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইয়্যেদ আহমেদ বুখারী, দিল্লির ফতেপুরি মসজিদের ইমাম মুকাররম আহমেদ, বেঙ্গল ইমামস এসোসিয়েশন-এর চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ ইয়াহিয়া ও অন্যদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করার পরিবর্তে বাসায় নামাজ পড়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
আজ (শুক্রবার) সকালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের পক্ষ থেকে মসজিদে জুমা নামাজের পরিবর্তে বাসায় জোহর নামাজ আদায় করতে বলা হয়।
রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক জামা মসজিদে জুমার দিনে কমপক্ষে ১০ হাজার মুসুল্লির সমাগম হয়। ঈদে কমপক্ষে মসজিদটিতে ১ লাখ মুসল্লির জমায়েত হয়। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্তের জামাতে কমপক্ষে ২ হাজার মুসল্লি নামাজে শামিল হন। কিন্তু আজ নজিরবিহীনভাবে সেখানকার কর্মীসহ মাত্র ১০ জনের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ‘বেঙ্গল ইমামস এসোসিয়েশন’-এর চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ ইয়াহিয়া আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বেঙ্গল ইমাম এসোসিয়েশন’ গত মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায় যে মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মসজিদ যেন ভিড় কমিয়ে ফেলে। শুধুমাত্র আযান চালু থাকবে এবং ৩ থেকে ৫ জন মিলে জামাত চালু রাখবেন বলে আমরা বিবৃতি প্রকাশ করি। আমরা জুমা নামাজের জন্যও একই আবেদন জানিয়েছিলাম। যেন জুমা নামাজেও দয়া করে মসজিদে মুসুল্লিরা ভিড় না করেন। যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন তারা যেন বাসায় জোহর নামাজ পড়ে নেন। জুমা নামাজ কেবলমাত্র ইমাম সাহেব ৫/৬ জনকে নিয়ে আদায় করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্ আমাদের বেঙ্গল ইমাম এসোসিয়েশনের ডাকে যথেষ্ট সাড়া পড়েছে। কোলকাতা তো বটেই, সুদূর কুচবিহার, দিনাজপুর, জলপাইগুড়িসহ অন্যান্য জেলা থেকেও আমাদের কাছে রিপোর্ট এসেছে আলহামদুলিল্লাহ আমাদের আবেদন কার্যকর করে এতে সাড়া দিয়েছেন। আমরা খুব খুশি যে ইমাম সাহেবরা সচেতনতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছেন।’#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/২৭