বিজেপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে, চিকিৎসা করা উচিত: জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ওঁরা যে ভাষায় কথা বলছেন তাতে ওঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওঁদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার। ওঁদের সর্বভারতীয় সভাপতির উচিত এঁদের প্রত্যেককে দিল্লি নিয়ে গিয়ে ‘এইমস’-এ ভর্তি করে ভালো করে চিকিৎসা করা।’
আজ (রোববার) উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবরডাঙায় দলীয় কর্মসূচি শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বেফাঁস ও আপত্তিকর মন্তব্য’ করা রাজ্য বিজেপি নেতাদের সম্পর্কে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সম্প্রতি বলেছেন, 'বদল চাই। বদলাও চাই।’ দিলীপকে ছাপিয়ে গিয়ে বিজেপির আর এক নেতা সায়ন্তন বসু থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দিলীপ ঘোষের ওই বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বাংলা কাদের বাংলা? এ বাংলা রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথের, নজরুলের বাংলা। এ বাংলায় ‘বদলা’ হয়? এ বাংলায় মারের বদলে মার হয়? ওঁরা (বিজেপি) যত কুৎসা করবে, ‘ফেক নিউজ’ আমরা তত উন্নয়ন করব। আসলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সম্পর্কে কোনও কথা বলা যাবে না, কারণ তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব আছে। ভারতীয় জনতা পার্টির অধিকাংশ লোকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব আছে। কাকে কী বলতে হয় জানে না। ওঁদের যুব মোর্চার সভাপতি বলছে পুলিশকে মারো, ওঁদের একজন সাধারণ সম্পাদক বলছে থানা জ্বালিয়ে দাও! এসব কী সভ্য সমাজে হয়? আমরা তো একসময়ে বিরোধী দলে ছিলাম। থানা জ্বালিয়ে দাও একথা বলা যায়?’
তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বদলা নয়, বদল চাই’। কিন্তু ওঁদের সভাপতি বলছেন ‘বদলাও নেব, বদলও চাই’। ওঁরা বাংলার মানুষকে কী ভাবেন? বাংলার মানুষকে বোকা ভেবেছেন নাকি? ভারতবর্ষকে পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে বাংলা। আমরা তা যুগ যুগ ধরে দেখেছি। এসব অকথা-কুকথা বলে বাংলায় ক্ষমতায় আসা যায় না। বিজেপি যে ক্ষমতায় আসার কথা বলছে তারা ২০৫৬ সালের কথা ভাবুন। ২০২১ সালের কথা ভেবে লাভ নেই।’
এদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিজেপি নেতা-কর্মীরা গোবরডাঙায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। এসম্পর্কে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বনগাঁ দক্ষিণে চাঁদপাড়া, ফুলসরা, ডুমা, কালুপুর এবং গাইঘাটার মধ্যে গোবরডাঙা পৌর এলাকার প্রায় সাড়ে তিনশো মানুষ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কালুপুর, ফুলসরা, গোবরডাঙা, চাঁদপাড়ার ‘বিজেপি’র মাথা’রা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সবাই মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নে শামিল হতে চায়।’
‘আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যেক’টা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি’র দখলে আছে আমরা জোর করে নয়, তারা স্বেচ্ছায় এসে তৃণমূলে যোগ দেবে বলেও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দাবি করেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।